টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
এপ্রিল ১, ২০২৬, ১১:৩২ এএম
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার তাড়াইল গ্রামে গৃহবধূ সীমা খানম (২৪)-কে হাত-পা বেঁধে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী রুবেল মোল্লার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে টুঙ্গিপাড়া ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সীমা খানম শ্রীরামকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুল আলী কাজীর মেয়ে। তার মায়ের নাম শাহেদা বেগম। প্রায় ১০ বছর আগে তাড়াইল ডুমুরিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষক রুবেল মোল্লা (৪০)-এর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সাত বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ বিকেল প্রায় ৫টার দিকে যৌতুকের টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রুবেল মোল্লা সীমা খানমের হাত-পা বেঁধে ঘরের ভেতর আটকে রেখে রাতভর শারীরিক নির্যাতন চালান। পরদিন ৩১ মার্চ ফজরের পর তার হাত-পা খুলে দিয়ে স্বামী মাঠে কাজে চলে যান।
এ সুযোগে সীমা খানম বাবার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে তার মা ও ভাই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সীমা খানম অভিযোগ করেন, বিবাহিত জীবনের শুরু থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাকে প্রায়ই নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তিনি জানান, কিছুদিন আগে তাকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং চুল কেটে ফেলা হয়, এতে তার মাথায় একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে।
ভুক্তভোগীর মা শাহেদা বেগম বলেন, “জামাইয়ের চাহিদা অনুযায়ী সবসময় সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বর্তমানে অতিরিক্ত দাবির কারণে আমার মেয়েকে নির্যাতন করা হচ্ছে।”
তিনি জানান, এ ঘটনার বিচার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এএন