আশরাফুল আলম, চুয়াডাঙ্গা
এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
তীব্র তাপপ্রবাহ, জ্বালানি সংকট এবং লাগামহীন লোডশেডিংয়ের ত্রিমুখী প্রভাবে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
শনিবার জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রখর রৌদ্রে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর পিচ গলে নরম হয়ে যাচ্ছে, যা জনজীবনে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি মানুষের সহনশীলতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাইরে বের হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পিচ গলে গাড়ির চাকার সঙ্গে লেপ্টে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এই বৈরী আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও নির্মাণ শ্রমিকরা। চিকিৎসকরা হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতা এড়াতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
জ্বালানি তেলের সংকটে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রকট বিদ্যুৎ বিভ্রাট। চাহিদার তুলনায় ৩০ থেকে ৪৬ শতাংশ বিদ্যুতের ঘাটতি থাকায় জেলাজুড়ে দিনে-রাতে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। কোথাও কোথাও ২৪ ঘণ্টায় ১২ থেকে ১৫ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ যাচ্ছে। বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় কয়লা ও গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। চলমান এসএসসি ও আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছেন না। অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেশি হওয়ায় ইরি-বোরো ধানের সেচ কাজে বিঘ্ন ঘটছে। বিদ্যুৎ না থাকায় সেচযন্ত্র চালানো যাচ্ছে না, ফলে শুকিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি।
চুয়াডাঙ্গা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৪২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯২ মেগাওয়াট। চুয়াডাঙ্গা জোনাল অফিসের ডিজিএম মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, তার জোনে ২০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১২ থেকে ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলছে। ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট না কাটলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাস্তার পিচ গলে যাওয়ার মতো ঘটনা জলবায়ু পরিবর্তনের এক অশনি সংকেত। মানুষ এখন এই দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে বৃষ্টির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
জেএইচআর