কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মে ৭, ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় কোরবানির পশুর হাট ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এবার উপজেলায় পশুর সরবরাহ স্থানীয় চাহিদাকে ছাড়িয়ে গেছে। ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার খামারে ৩৩ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় ৫ হাজার বেশি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, এবার বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১৪ হাজার ৫২টি ষাঁড়, ৫ হাজার ৮৪৩টি বলদ, ১ হাজার ৯৪৩টি গাভী, ১ হাজার ৬৩৫টি মহিষ, ৮ হাজার ৩৬০টি ছাগল এবং ৫৮৬টি ভেড়া। গত বছর এই এলাকায় কোরবানির চাহিদা ছিল প্রায় ২৭ হাজার ৯৬০টি। পশুর এই উদ্বৃত্ত সংখ্যা দেশের অন্যান্য এলাকার চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পশুপালন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষিত ১০ জন কর্মী খামারিদের নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন। এছাড়া কোরবানির হাটে ১০ জন চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে। বিদেশি গরু না এলে স্থানীয় খামারিরা ন্যায্য মূল্য ও ভালো মুনাফা পাবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব কান্তি রুদ্র জানান, সরকার নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও হাট বসতে দেওয়া হবে না। যানজট ও জনভোগান্তি রোধে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হাটগুলোতে চাঁদাবাজি ও জাল টাকা প্রতিরোধে সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার এবং স্বেচ্ছাসেবক টিম থাকবে। এছাড়া সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
উপজেলার ‘রায়হান এগ্রোফার্ম’-এর মালিক মুহাম্মদ এয়াকুব জানান, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে কাঁচা ঘাস ও ভূষি খাইয়ে তিনি তাঁর খামারে ১৩০ কেজি থেকে ৮৫০ কেজি ওজনের ৩৬টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন। তবে পশুখাদ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন মোহাম্মদ মারুফের মতো ক্ষুদ্র খামারিরা।
মইজ্জ্যারটেক সিডিএ আবাসিক মাঠের হাটের ইজারাদার মো. আলমগীর বিন হোসাইন জানান, ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা ও জাল টাকা শনাক্তকরণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক, ফকিনীরহাট, ফাজিলখাঁর হাট ও কলেজবাজারসহ প্রধান হাটগুলোতে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।
সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা ও অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকলে স্থানীয় খামারিরা লাভবান হবেন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জেএইচআর