ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

ডাকাতির পরিকল্পনায় নারী দোকানদারকে হত্যা, ২ জনের স্বীকারোক্তি 

গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুর প্রতিনিধি

মে ১০, ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম

ডাকাতির পরিকল্পনায় নারী দোকানদারকে হত্যা, ২ জনের স্বীকারোক্তি 

গাজীপুরের পূবাইলের আলোচিত নারী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। গ্রেফতারকৃতরা নিহতের পরিচিত ছিলেন এবং বকেয়া টাকার বিরোধের জের ধরে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে রংপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দু’জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

রোববার পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন কামরুজ্জামান (৩৫), আমজাদ হোসেন (৩০) ও আফজাল হোসেন (৩৩)। তারা সবাই রংপুরের গঙ্গাচড়া এলাকার বাসিন্দা। তারা গাজীপুরের মেঘডুবি এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

পিবিআই জানায়, নিহত শেফালী বেগম কুলসুম (৪৬) পূবাইলের মেঘডুবি এলাকায় নিজ বাসায় চা-পানের দোকান পরিচালনার পাশাপাশি কয়েকটি কক্ষ ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ২৬ এপ্রিল বিকেল থেকে রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা তাকে বাসার ভেতরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরে স্বজনরা গেট ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে পূবাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে পিবিআই গাজীপুর জেলা ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৮ মে দিবাগত রাতে রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, গ্রেফতারকৃতরা স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং নিহত শেফালী বেগমের দোকান থেকে বাকি খাতায় মালামাল নিতেন। তাদের কাছে কয়েক হাজার টাকা পাওনা ছিল। এ নিয়ে নিহতের সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বাসায় টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে-এমন ধারণা থেকে তারা ডাকাতির পরিকল্পনা করেন।

পিবিআইয়ের দাবি, ঘটনার আগের দিন এক আসামি নিহতকে জানান যে তিনি তার বান্ধবীকে নিয়ে বাসায় খাওয়া-দাওয়া করবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৬ এপ্রিল দুপুরে ফল, কোমল পানীয়, বিস্কুট ও ঘুমের ওষুধ নিয়ে তারা নিহতের বাসায় প্রবেশ করেন। পরে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর শেফালী বেগম অচেতন হয়ে পড়লে প্রথমে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত এবং পরে ধারালো দা দিয়ে মুখ, হাত ও পেটে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর ঘরে তল্লাশি চালিয়ে নগদ তিন হাজার ২৫০ টাকা ও কিছু গহনা নিয়ে পালিয়ে যায় আসামিরা। পরে রংপুরে গিয়ে গহনাগুলো বিক্রির চেষ্টা করলে স্বর্ণকার সেগুলো সিটিগোল্ড বলে জানান।

পিবিআই জানায়, গ্রেফতারের পর কামরুজ্জামান ও আমজাদ নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর আসামি আফজাল হোসেনকে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো দা ও একটি বাঁশের লাঠি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।

পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, স্থানীয় সোর্স তথ্য ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এম জি
 

Link copied!