কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
মে ১৪, ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ, সেই বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত কটিয়াদী কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ এখন চরম অবহেলা ও অযত্নে পড়ে আছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ বর্তমানে বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণস্থলে পরিণত হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্মৃতিসৌধের মূল বেদি ও আশপাশের চত্বরে দিন-রাত কুকুরের আনাগোনা চলছে। অনেক সময় কুকুরকে মূল বেদির ওপর শুয়ে থাকতে দেখা যায়, যা শহীদদের স্মৃতির প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। এছাড়া প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এবং সন্ধ্যার পর ভবঘুরেদের আড্ডা বসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থাপনাটির পবিত্রতা ও গাম্ভীর্য মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মহান স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের মতো জাতীয় দিবসগুলো এলে লোকদেখানো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করা হয়। তবে বছরের বাকি সময় এটি অরক্ষিত থাকে। সীমানা প্রাচীর ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় কুকুর ও গবাদিপশুর অবাধ বিচরণ বন্ধ করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্মৃতিসৌধ আমাদের জাতীয় চেতনা ও বীর শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতীক। অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে এমন বেহাল অবস্থা তৈরি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, আমাদের জাতির ইতিহাসের অংশ।
স্মৃতিসৌধের মর্যাদা রক্ষায় স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে প্রাঙ্গণে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিশ্চিত করা, নিরাপত্তা জোরদার এবং স্থায়ী তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার জোর দাবি জানিয়েছেন। শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দ্রুত এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির অবসান ঘটবে এমনটাই প্রত্যাশা কটিয়াদীবাসীর।
জেএইচআর