ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সবুজ পাহাড়ে লটকনের বাম্পার ফলন, স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

জসীম উদ্দিন জয়নাল, পার্বত্যাঞ্চল

জসীম উদ্দিন জয়নাল, পার্বত্যাঞ্চল

জুন ৪, ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম

সবুজ পাহাড়ে লটকনের বাম্পার ফলন, স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

পাহাড়ে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুলছে হলদে-সোনালি রঙের লটকন। একসময় পাহাড়ের ঢালু জমিতে স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেওয়া লটকন ফল অবহেলায় নষ্ট হয়ে গাছের নিচে পড়ে থাকত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে টক-মিষ্টি স্বাদের এই পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফলটির চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও মাটিরাঙ্গার লটকন যাচ্ছে। ফলে পাহাড়ে বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে মাটিরাঙ্গা উপজেলার একটি পাহাড়ি বাগানে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে মাঝারি আকৃতির গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে সোনালি রঙের লটকন। ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে অনেক ডাল। এমনই একটি সফল বাগানের মালিক কৃষক নুর আলম।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সঠিক নিয়মে বাগান ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে লটকনের উৎপাদন আরও কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব। তবে কিছু সীমাবদ্ধতা এখনও কৃষকদের ভাবিয়ে তুলছে। লটকন অত্যন্ত পচনশীল ফল হওয়ায় দ্রুত বাজারজাত করতে না পারলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। পাহাড়ি অঞ্চলে হিমাগার বা কোল্ড স্টোরেজের অভাব এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে অনেক সময় চাষিরা কাঙ্ক্ষিত মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।

জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলায় ৯ হেক্টর জমিতে লটকনের আবাদ হয়েছিল। সে সময় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩১ মেট্রিক টন। অন্যদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লটকনের আবাদ বেড়ে ১২ হেক্টরে পৌঁছেছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৮ মেট্রিক টন।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মাটিরাঙ্গার ব্যঙ্গমারা, সাপমারা, মোহাম্মদপুর, রসুলপুর ও আটবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় লটকনের গাছ রয়েছে। স্থানীয় বাঙালিদের কাছে পরিচিত এই ফলটি চাকমা ভাষায় ‘পচিমগুল’, মারমা ভাষায় ‘ক্যানাইজুসি’ এবং ত্রিপুরা ভাষায় ‘খুচমাই’ নামে পরিচিত। সাধারণত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে লটকন পাকতে শুরু করে। চলতি মৌসুমে লটকনের বাম্পার ফলনে মুখে হাসি ফুটেছে চাষিদের। স্থানীয় পাইকারি বাজারগুলো এখন লটকনের মিষ্টি গন্ধে ম ম করছে। আকার ও গুণগত মানভেদে প্রতি কেজি লটকন বর্তমানে বাজারে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় লটকন চাষি নুর আলম জানান, ২০১৯ সালের গোড়ার দিকে মাটিরাঙ্গা সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার আঁকাবাঁকা মেঠো পথ বেয়ে রসুলপুর নামক এলাকায় গভীর অরণ্য ভেদ করে ১৩ একর জায়গাজুড়ে তিনি বিভিন্ন ফলের গাছ রোপণ করেন। এই বাগানে তিনি ইংল্যান্ড থেকে সংগ্রহপূর্বক ১০০টি টিস্যু কালচার খেজুরের চারা, চাইনিজ কমলা, রামবুটান, লংগান, মিয়াজাকি আম, গুরুমতি, ভিয়েতনামি মাল্টা, কাটিমন আম, মিশরীয় মাল্টা, রিং মাল্টা, আলুবোখারা, আপেল, নাশপাতি, অ্যাভোকাডো, লটকনসহ বিভিন্ন জাতের ফলের গাছ রোপণ করেন।

তিনি আরও জানান, ২০২২ সালের শুরুর দিকে তিনি উক্ত জমিতে ৬০টি উন্নত জাতের লটকন গাছ রোপণ করেন। নরসিংদী থেকে প্রতিটি কলম ৩০০ টাকা করে কিনে আনেন তিনি। গত বছর প্রথমবারের মতো তার বাগানে ফল আসে। সে সময় প্রায় ২০০ কেজি লটকন সংগ্রহ করা হয়। চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০ কেজি ফলন পাওয়ার আশা করছেন তিনি। বড় একটি গাছ থেকে ২২ থেকে ৫০ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। গত বছর প্রতি কেজি লটকন ১০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় এ ফল চাষে লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

লটকন চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর উৎপাদন খরচ অত্যন্ত কম। কৃষকরা জানান, লটকন গাছের খুব বেশি পরিচর্যা করতে হয় না। গাছ রোপণের পর সাধারণত ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে ফল ধরা শুরু করে। একবার গাছ বড় হয়ে গেলে প্রতি বছরই ফলন পাওয়া যায়। পাহাড়ের লাল ও দোআঁশ মাটি লটকন চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। অন্যান্য ফল চাষের তুলনায় এতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় কীটনাশক বা সারের পেছনে অতিরিক্ত খরচ করতে হয় না। ফলে স্বল্প পুঁজিতেই কৃষকরা লাভের মুখ দেখছেন।

মাটিরাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন জয়নাল বলেন, “সবুজ পাহাড়ের বুকে লটকনের এই সোনালি বিপ্লব গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নীরব অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ বাড়ানো গেলে পাহাড়ি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।” তিনি বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ঋণ এবং আধুনিক বাজারজাতকরণ সুবিধা পেলে লটকন চাষ দেশের ফল উৎপাদনে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, “লটকন একটি উচ্চমূল্যের ও লাভজনক ফল। পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া লটকন চাষের জন্য চমৎকার। আমরা কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি এবং উন্নত জাতের চারা সরবরাহ করছি। লটকন চাষকে আরও বাণিজ্যিকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারলে এটি দেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসলে রূপ নেবে। ফলটি সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে হিমাগার স্থাপন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তুলতে পারলে কৃষকরা আরও লাভবান হবেন।”

এএন

Link copied!