ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
অর্থমন্ত্রী

দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে আরও ২ বছর লাগবে

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

মে ১৬, ২০২৬, ০১:৩২ পিএম

দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে আরও ২ বছর লাগবে

দেশের অর্থনীতি এখনও স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বিগত সরকারগুলো দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল ও বিপর্যস্ত অবস্থায় রেখে গেছে। সেই ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আরও অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।

শনিবার সকালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে মা ও শিশু হাসপাতালের নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে জ্বালানি খাতে। তিনি জানান, শুধু জ্বালানি খাতেই আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধে গত দুই মাসে আরও প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের জাতীয় অর্থনীতি এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বাস্থ্যখাত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমীর খসরু বলেন, আগের সরকারের সময়ে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দের বড় একটি অংশ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অপচয় হয়েছে। বর্তমান সরকার শুধু বরাদ্দ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করবে না, বরং সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না সেটিও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে বিভিন্ন সরকার মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করেছে। তবে বর্তমান সরকার এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না।

অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মান ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নয়, পুরো রাষ্ট্রই ক্ষতির মুখে পড়ে। তাই স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

এসময় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন আমির খসরু। তিনি বলেন, যোগ্যতা ছাড়া কাউকে ভর্তি করানো উচিত নয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় ভর্তি হলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান নষ্ট হয়।

মন্ত্রী বলেন, মেডিক্যাল শিক্ষার মান বজায় রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঠিক অনুপাত, পর্যাপ্ত ফ্যাকাল্টি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। এসব প্রস্তুতি ছাড়া আসনসংখ্যা বাড়ানো উচিত নয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মৌলিক অধিকার। দীর্ঘদিন মানুষ এ অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমান সরকার সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজ করছে। সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা করা হবে। রোগীরা সেখানে চিকিৎসা নিলে বিল সরকার পরিশোধ করবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া সুবিধা, ডিজিটাল লাইব্রেরি, খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার ভাষ্য, বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। তাই মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে দক্ষ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের ঘাটতি রয়েছে। দক্ষ জনবলের অভাবে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ কারণে মেডিক্যাল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তিনি।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস খাতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়াও পরিশোধ করতে হচ্ছে। ঋণাত্মক অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে সরকার কাজ করছে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।

এম জি

Link copied!