হোছাইন মুহাম্মদ তারেক, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)
মে ১৮, ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজাজুড়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও প্রান্তিক কৃষকেরা। উপজেলার ছোট-বড় খামার থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদের বাড়ির আঙিনায়ও চলছে গরু, ছাগল ও ভেড়া লালন-পালনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
স্থানীয় খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশীয় জাতের গবাদিপশুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ায় এবার অনেকেই প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণে গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে দেশীয় জাতের পাশাপাশি অধিক মাংস উৎপাদন ও লাভের আশায় শাহীওয়াল, রেড সিন্ধি ও ফ্রিজিয়ান জাতের গরুও পালন করছেন অনেকে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ঈশ্বরগঞ্জে কোরবানির জন্য মোট ৬ হাজার ২০৫টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই গরু। এ ছাড়া প্রস্তুত রয়েছে ২ হাজার ৭৫৯টি ছাগল ও ভেড়া। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় গড়ে ওঠা প্রায় ২০৪টি খামারে এসব পশু পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক পরিবার নিজ উদ্যোগে বাড়িতেও পশু লালন-পালন করছে।
খামারিরা বলছেন, গত কয়েক বছরে রাসায়নিকমুক্ত ও দেশীয় পশুর চাহিদা বাড়ায় নিরাপদ উপায়ে পশু পালন করতে আগ্রহী হচ্ছেন তাঁরা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারাও নিয়মিত খামার পরিদর্শন, চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছেন।
ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার শিমরাইল গ্রামের আবুল হাসেম এগ্রো খামারের মালিক আবুল ফয়সাল টিপু বলেন, তাঁর খামারে বর্তমানে প্রায় ৪০টি ষাঁড় রয়েছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী ঘাস, খড়, ভুসি ও ভুট্টাসহ প্রাকৃতিক খাদ্য খাইয়ে পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এবার গো-খাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে, ফলে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে কয়েক গুণ। তারপরও আশা করছেন বাজার পরিস্থিতি ভালো থাকলে লাভ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, ভারতীয় গরু অবৈধভাবে বাজারে প্রবেশ করলে দেশীয় খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়বেন, এতে ভবিষ্যতে অনেকেই পশুপালনে আগ্রহ হারাতে পারেন।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, কৃষিকাজের পাশাপাশি গবাদিপশু পালন এখন তাঁদের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। অনেক পরিবার সারা বছর গরু লালন-পালন করে ঈদের আগে বিক্রি করে বাড়তি আয় করেন।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিজভী আহাম্মেদ বলেন, কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশুগুলো প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত খামার তদারকি করছেন, যাতে কোনো খামারি ক্ষতিকর হরমোন বা নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার না করেন। তিনি আরও বলেন, ঈশ্বরগঞ্জের পশু দিয়ে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে, এতে স্থানীয় খামারি ও প্রান্তিক কৃষকেরা লাভবান হবেন।
এদিকে অনেক খামারি ইতোমধ্যে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন বড় পশুর হাটে গবাদিপশু পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন। পরিবহন ও বাজারজাতকরণ নিয়েও চলছে ব্যস্ততা।
সব মিলিয়ে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ঈশ্বরগঞ্জের খামার ও গ্রামীণ জনপদে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, দেশীয় পশুর চাহিদা ও সরকারি তদারকির কারণে এবার প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
জেএইচআর