জসীম উদ্দিন জয়নাল, পার্বত্যাঞ্চল (খাগড়াছড়ি)
মে ১৯, ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
পাহাড়ে সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে আর্থ-সামাজিক কর্মসূচির আওতায় দুস্থ পাহাড়ি-বাঙালি জনসাধারণের মাঝে বিশেষ মানবিক সহায়তা, বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, খেদাছড়া ব্যাটালিয়ন (৪০ বিজিবি) ও পলাশপুর জোন।
মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে পলাশপুর জোন সদরে এই মানবিক ও চিকিৎসা সেবা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পলাশপুর জোন কমান্ডার এবং খেদাছড়া ব্যাটালিয়ন (৪০ বিজিবি) এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মুহা. শাহীনূল ইসলাম, পিএসসি, ইঞ্জিনিয়ার্স।
কর্মসূচির আওতায় পলাশপুর জোনের বিশেষ মানবিক সহায়তায় ১টি দুস্থ পরিবারকে চিকিৎসার জন্য, ১ জন দরিদ্র নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপকরণ ও পোশাক তৈরির জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৪টি অসহায় পরিবারকে গৃহ নির্মাণের জন্য সাড়ে ৬ বান্ডেল ঢেউটিন, ৫টি দরিদ্র পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী উপহার এবং ১টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের জন্য ১৬ বস্তা সিমেন্ট প্রদান করা হয়। একই সাথে ১টি এতিমখানার ছাত্রদের জন্য ১০০ কেজি চাল এবং ২টি যাত্রী বা কৃষক ছাউনি নির্মাণের জন্য ১৫ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।
সম্প্রীতির সমাজব্যবস্থা বিকাশের লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানে সর্বমোট ৯৩,২৫০ (তিরানব্বই হাজার দুইশত পঞ্চাশ) টাকার মানবিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে ৬টি পাহাড়ি পরিবার, ৫টি বাঙালি পরিবার এবং ৪টি সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উপকৃত হয়েছে।
একই দিনে পলাশপুর জোন সদরে চিকিৎসা সুবিধা বঞ্চিত জনসাধারণের মাঝে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ করে খেদাছড়া ব্যাটালিয়ন (৪০ বিজিবি)। এই ক্যাম্পেইনে দেড় শতাধিক গরিব ও দুস্থ জনসাধারণকে স্বাস্থ্য সেবা এবং বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়।
খেদাছড়া ব্যাটালিয়নের (৪০ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মুহা. শাহীনূল ইসলাম বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি বিজিবি এই অঞ্চলে নিয়মিত মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় দুস্থ ও অসহায় পরিবারদের বিশেষ মানবিক ও আর্থিক সহায়তা এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। বিজিবি পাহাড়ি জনপদের দুস্থ ও সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সহায়তা এবং সেবা প্রদানের মাধ্যমে অতীতেও মানুষের পাশে ছিল এবং আগামীতেও স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি জনসাধারণের পাশে থাকবে।
জেএইচআর