ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

ঈদ ঘিরে মাগুরায় বাড়ছে যানজট ও জনভোগান্তি

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা

মে ২৪, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

ঈদ ঘিরে মাগুরায় বাড়ছে যানজট ও জনভোগান্তি

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মাগুরা শহরে এখন মানুষের ঢল। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার চার উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে হাজারো মানুষ ছুটছেন কেনাকাটা, পশু বেচাকেনা ও বিভিন্ন কাজে। কিন্তু বাড়তি এই চাপ সামাল দেওয়ার মতো প্রস্তুতি নেই শহরের সড়ক ব্যবস্থাপনায়। ফলে দিন যত গড়াচ্ছে, ততই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে যানজট। শহরের চৌরঙ্গী মোড়, নতুন বাজার, ঢাকা রোড, স্টেডিয়াম এলাকা, ভায়না মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দিনের বেশিরভাগ সময়ই যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মোড়ে মোড়ে আটকে আছে অটোরিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহন। কোথাও কোথাও কয়েকশ গজ রাস্তা পার হতে সময় লাগছে ২০ থেকে ৩০ মিনিট।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ঈদের বাজার করতে আসা সাধারণ মানুষ। অনেকেই শিশু ও পরিবার নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকছেন। ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়ছে বিরক্তি ও ক্ষোভও।

শহরের নতুন বাজার এলাকায় কেনাকাটা করতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, যানজটের কারণে বাজারে আসাটাই এখন আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অটোরিকশা ভাড়া বাড়ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে, আবার যানজটে আটকে থেকে চুরি-ছিনতাইয়ের ভয়ও বাড়ছে।

শহরের বিভিন্ন মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সীমিত জনবল ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের কারণে কার্যত পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে মাগুরা সদর ট্রাফিকের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হাসান মল্লিক বলেন, “এসপি স্যারের অনুমতি ছাড়া কোনো সাক্ষাৎকার দিতে পারব না। ট্রাফিক সেকশনে কতজন স্টাফ কাজ করেন, সেটাও এখন বলা সম্ভব না। ফাইল দেখতে হবে।”

তার এই বক্তব্য থেকেই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার একটি চিত্র ফুটে উঠেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষের এই জেলায় রয়েছে ১১২টি হাট-বাজার, ৭৩০টি গ্রাম এবং বিস্তৃত সড়ক নেটওয়ার্ক। কিন্তু জেলা শহরের মূল সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অপরিকল্পিত যান চলাচল, অবৈধ পার্কিং ও দখল সমস্যায় জর্জরিত। ঈদকে সামনে রেখে সেই চাপ এখন কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাশ্বতী শীল বলেন, “ঈদের সময় স্বাভাবিকভাবেই শহরে মানুষের চাপ বেড়ে যায়। প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। যানজট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু পর্যবেক্ষণ নয়, কার্যকর উদ্যোগই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

শহরের বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, সড়কের একপাশজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে অটোরিকশা ও সিএনজি। কোথাও আবার দোকানের সামনে পণ্য নামানো হচ্ছে রাস্তার ওপরেই। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে সড়কে হাঁটছেন। এতে যান চলাচল আরও ধীর হয়ে পড়ছে।

পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল। তিনি বলেন, “যানজট শুধু পুলিশের একার সমস্যা না। ব্যবসায়ী, চালক, পথচারী- সবাইকে সচেতন হতে হবে। অবৈধ পার্কিং ও এলোমেলো যান চলাচল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে ঈদের আগে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”

স্থানীয়দের মতে, শহরের প্রধান মোড়গুলোতে স্থায়ী ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা নেই, পর্যাপ্ত ট্রাফিক সদস্যও চোখে পড়ে না। এছাড়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল, সড়কে যত্রতত্র গাড়ি থামানো এবং বাজারকেন্দ্রিক দখল সংস্কৃতিও যানজট বাড়িয়ে তুলছে।

সচেতন মহল বলছে, এখনই জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। যেমন- গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন, অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ, বাজার এলাকায় অস্থায়ী ওয়ানওয়ে ব্যবস্থা, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং সন্ধ্যার পর ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ।

তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ঈদের শেষ মুহূর্তে মাগুরা শহরের যানজট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তখন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও পৌঁছাবে চরমে।

এএন

Link copied!