আমার সংবাদ ডেস্ক
মে ৩১, ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা কাঁচাবাজার এলাকার বায়তুল আমান মহল্লায় শাশুড়ি ও দুই নাতিকে হত্যার ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পারিবারিক বিরোধ ও দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব থেকেই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে ঘটনার একদিন পরও প্রধান সন্দেহভাজন রফিককে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন রাতে ফাতেমা বেগম বেবির সঙ্গে রফিকের পারিবারিক বিরোধ চরমে ওঠে। একপর্যায়ে শাশুড়ি তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। তদন্তকারীদের ধারণা, ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ মে রাত ২টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে ফাতেমা বেগম এবং তার দুই নাতি-১২ বছর বয়সী শামীম ও ৫ বছর বয়সী মোস্তাকিমকে হত্যা করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহ, তাদের চেতনানাশক মিশ্রিত খাবার খাইয়ে অচেতন করার পর গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে মরদেহগুলো ঘরের ভেতরে একটি ওয়ারড্রপ ও ট্রাংকের মধ্যে লুকিয়ে রেখে ঘরে তালা ঝুলিয়ে চলে যায় অভিযুক্ত।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে ঘরের দরজা ভেঙে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত দুই শিশুর বাবা মাসুম বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় রফিককে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। তবে এখনো তাকে আটক করা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
খুলনা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে রফিকের বিরুদ্ধে সন্দেহের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ঈদের দিন রাতে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল এবং শাশুড়ির সঙ্গে তার সম্পর্কও ভালো ছিল না। শিশুদের সঙ্গেও তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল বলে জানা গেছে। এসব কারণ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ড সংঘটনের আগে ভুক্তভোগীদের খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মেশানো হয়ে থাকতে পারে, যাতে তারা কোনো প্রতিরোধ বা চিৎকার করতে না পারেন। এরপর তাদের গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে এই নৃশংস ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
এম জি