বরগুনা প্রতিনিধি
জুন ৩, ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. ইউসুফ আলীর নবনির্মিত বাসার সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে গিয়ে শ্রমিক জাহিদুল হাওলাদার (৩৫) ও জাফর হাওলাদার (৫০) নিহত হয়েছেন।
বুধবার সকালে আমতলী একে স্কুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করেছেন।
জানা গেছে, আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. ইউসুফ আলী একে স্কুল এলাকায় নতুন পাকা ভবন নির্মাণ করছিলেন। ওই ভবনের সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে শ্রমিক জাহিদুল ইসলাম ও জাফর হাওলাদার যান। শ্রমিক জাহিদুল ট্রাঙ্কের ভেতর নামেন। নামামাত্রই তিনি ডাক-চিৎকার দেন। না বুঝে তাকে উদ্ধার করতে শ্রমিক জাফর হাওলাদার ট্রাঙ্কের মধ্যে নামেন। কিন্তু তিনিও অচেতন হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাঙ্কের বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসকষ্টে তারা মারা গেছেন। তাদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. লুনা বিনতে হক তাদের মৃত্যু ঘোষণা করেন।
আমতলীতে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে এমন মৃত্যুই প্রথম। এমন ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-পাতাল ভারী হয়ে উঠেছে।
নিহত জাহিদুলের বাড়ি উপজেলার হলদিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম আজিজ হাওলাদার। অপর নিহত জাফর হাওলাদারের বাড়ি বেতমোর গ্রামে। তার বাবার নাম ইউনুস মিয়া। ঘটনার পরপরই বাড়ির মালিক মাওলানা মো. ইউনুস মিয়া পালিয়ে গেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী মশিউর রহমান বলেন, সকাল সাড়ে আটটার দিকে শ্রমিক জাহিদুল ইসলাম সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে নামেন। এ সময় তিনি ডাক-চিৎকার দেন। তাকে রক্ষায় আরেক শ্রমিক ট্রাঙ্কে নামলে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। উদ্ধারকালেই তারা নিস্তেজ ছিলেন।
নিহত জাফর হাওলাদারের ভগ্নিপতি রুহুল আমিন বলেন, ভবন মালিকের অসচেতনতার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আবু হানিফ বলেন, সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড ও ফসজিন গ্যাসের উৎপাদন হয়। শ্রমিকরা অসাবধানতাবশত ট্রাঙ্কে নেমে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে বিষাক্ত গ্যাস নিষ্ক্রিয় করে ট্রাঙ্কের মুখ ভেঙে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. লুনা বিনতে হক বলেন, তাদের হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএন