ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

ফেনীতে ৮০ হাজার পশু কোরবানি হলেও চামড়া সংরক্ষণ ৬০ হাজার

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, ফেনী

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, ফেনী

জুন ৩, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

ফেনীতে ৮০ হাজার পশু কোরবানি হলেও চামড়া সংরক্ষণ ৬০ হাজার

ফেনীতে এবার ৮০ থেকে ৮৫ হাজার পশু কোরবানি হলেও সংরক্ষণ করা গেছে মাত্র ৬০ হাজার চামড়া। বাকি চামড়া নষ্ট হয়েছে কিংবা ডাম্পিং করতে হয়েছে। আবার কোথাও নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে, কোথাও মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

কোরবানির আগে চামড়া সংরক্ষণে জেলা প্রশাসনের নানা উদ্যোগ ও প্রস্তুতির কথা বললেও বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি। চামড়া ব্যবসায়ী ও জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, পর্যাপ্ত ব্যবসায়ী না থাকায় বিপুল পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি সময়মতো লবণ না দেওয়া, সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ না করা, প্রশিক্ষণের অভাব এবং লোক সংকটের কারণে হাজার হাজার চামড়া নষ্ট হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, এবার জেলায় ৫৯ হাজার ৮৯৪টি চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪১ হাজার ৪২৯টি, ছাগলনাইয়াতে ৮ হাজার, দাগনভূঞাতে ৮০০টি, সোনাগাজীতে ৯ হাজার ১৪০টি, ফুলগাজীতে ২৯০টি এবং পরশুরামে ২৩৫টি চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তবে ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, এ সংখ্যা আরও কম হতে পারে, কারণ অধিকাংশ চামড়া সংরক্ষণের আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। তারা বলছেন, জেলায় সর্বোচ্চ ৪৫ থেকে ৫০ হাজার চামড়া সংরক্ষণ হয়েছে।

চামড়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্প দীর্ঘদিন ধরে নীতিগত সংকট, ব্যবসায়ীদের অনাগ্রহ এবং ট্যানারি খাতের অস্থিরতার কারণে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। তারই প্রতিফলন দেখা গেছে এবারের কোরবানির মৌসুমে।

এদিকে কোরবানির আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদ্রাসা, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও সংশ্লিষ্টদের চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। কৌশলগত স্থানে অস্থায়ী সংরক্ষণাগার নির্মাণের উদ্যোগের কথাও বলা হয়েছিল। একইসঙ্গে লবণ সরবরাহ নিশ্চিতের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়। তবে মাঠপর্যায়ে সেই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের মতে, শুধু লবণ বিতরণ করলেই চামড়া সংরক্ষণ নিশ্চিত হয় না। সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে লবণ প্রয়োগ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও তদারকির ঘাটতি ছিল।

পাঁচগাছিয়া বাজারের ব্যবসায়ী নূর নবী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আইয়ুব নবী সবুজ বলেন, ফেনীতে ৮০ থেকে ৮৫ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। কিন্তু সর্বোচ্চ সংরক্ষণ হয়েছে মাত্র ৪৫ হাজার চামড়া। ব্যবসায়ীদের একটি বড় সংকট রয়েছে। এখন আর আগের মতো এই ব্যবসায় কেউ আসতে চান না। ফেনী শহরে বড়-ছোট মিলিয়ে ৫ থেকে ৬ জন ব্যবসায়ী আছেন। এর মধ্যে বড় ব্যবসায়ী মাত্র দুজন। তাদের পক্ষে এত চামড়া সংগ্রহ ও লবণজাত করা সম্ভব নয়।

ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার জানান, চামড়া সংরক্ষণের বিষয়ে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। জেলায় সর্বমোট ৫৯ হাজার ৮৯৪টি চামড়া সংরক্ষণ হয়েছে।

এর মধ্যে ব্যবসায়ীরা যে তথ্য দিচ্ছেন ৪০ থেকে ৪৫ হাজার সেটি ব্যবসায়ীরা সংরক্ষণ করেছে। বাকি চামড়া মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং কর্তৃক সংরক্ষিত রয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে কোরবানের আগে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি লবণ সরবরাহ করা হয়েছিল। মাদ্রাসা-এতিমখানায় সেই লবণের মাধ্যমেই অনেকে সংরক্ষণ করেছে বলেও তিনি জানান।

এএন

Link copied!