আরিফ হোসেন, বরিশাল
জুন ১৯, ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
গেল শতাব্দীর আশির দশক থেকে ব্যবসার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বরিশাল নগরীর চকবাজার সময়ের পরিক্রমায় স্থানীয়দের কাছে ‘গরিবের মার্কেট’ নামে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ফুটপাতজুড়ে বসা অস্থায়ী দোকান ও স্বল্পমূল্যের নানা পণ্যের কারণে এলাকাটি যেন এক প্রাণবন্ত মেলায় পরিণত হয়। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের কাছে কম খরচে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার অন্যতম নির্ভরযোগ্য স্থান এটি।
শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনে নগরীর অধিকাংশ মার্কেট, শপিংমল ও সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত বন্ধ থাকায় অন্যান্য এলাকার তুলনায় সড়কে যানবাহন ও মানুষের চলাচল কম থাকে। ব্যস্ততম গির্জা মহল্লা, সদর রোডসহ বিভিন্ন এলাকাও তুলনামূলক ফাঁকা দেখা যায়। তবে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যায় চকবাজার ও সংলগ্ন গির্জা মহল্লা এলাকায়।
সকাল থেকেই রাস্তার দুই পাশের ফুটপাতজুড়ে দোকান সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ফুটপাতজুড়ে সারিবদ্ধভাবে বসে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের দোকান।
এখানে নারীদের প্রসাধনী, শাড়ি, থ্রি-পিস, রেডিমেড পোশাক, জুতা, বিছানার চাদর, বালিশের কভার, কম্বল, মশারি, পর্দা, হাঁড়ি-পাতিল, সিরামিক সামগ্রী, গৃহস্থালির বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য, শিশুদের পোশাক ও খেলনাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পণ্যই পাওয়া যায়। তুলনামূলক কম দামে এসব পণ্য বিক্রি হওয়ায় ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
ক্রেতাদের ভাষ্য, সীমিত আয়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে চকবাজারের বিকল্প নেই। এক জায়গায় কম দামে বিভিন্ন ধরনের পণ্য পাওয়ায় প্রতি শুক্রবার তারা পরিবারের কেনাকাটা সারতে এখানে আসেন।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, শুক্রবারই তাদের সপ্তাহের সবচেয়ে বড় বেচাকেনার দিন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় থাকায় এই একদিনের বিক্রির ওপরই অনেকটা নির্ভর করে তাদের সাপ্তাহিক আয়।
স্বল্পমূল্যের পণ্য, সহজলভ্যতা এবং বৈচিত্র্যময় পণ্যের সমাহারের কারণে বরিশালের চকবাজারের ‘গরিবের মার্কেট’ এখন শুধু একটি বাজার নয়, বরং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কেনাকাটার অন্যতম আস্থার ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। প্রতি শুক্রবার তাই এই বাজারে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ, যা নগরীর অন্যান্য এলাকার চিত্র থেকে একেবারেই ভিন্ন।
এম জি