আমার সংবাদ ডেস্ক
জুন ১৬, ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমদের দুবাইয়ে আটকের ঘটনাকে ঘিরে নতুন এক দাবি সামনে এনেছে তার পরিবার। তাদের ভাষ্যমতে, বিমানবন্দর থেকে নয়, বরং পরিচিত এক ব্যক্তির ডাকে সাড়া দিয়ে শপিং মলে যাওয়ার পর তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন।
পরিবারের দাবি, গত ১২ জুন দুবাইয়ে নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন বেনজীর আহমদ। ওই সময় চট্টগ্রাম অঞ্চলের একজন সংসদ সদস্য, যিনি দীর্ঘদিনের বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবেও পরিচিত, তাকে কাছাকাছি একটি শপিং মলে দেখা করার আহ্বান জানান। বেনজীর সেখানে পৌঁছানোর পরই আগে থেকে প্রস্তুত অবস্থায় থাকা দুবাই পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে ওই সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন লোকও উপস্থিত ছিলেন। তাদের ধারণা, পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন বা সরকারি সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিবার আরও জানায়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা জানতে পেরেছেন যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেনজীরের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো মামলা নেই। তাদের মতে, বাংলাদেশ পুলিশের অনুরোধে ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশের কারণেই তাকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য ব্যক্তিগতভাবে কিছু নথিপত্র দুবাই পুলিশের কাছে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রেখেছেন।
বেনজীরের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, আটকের পর দুবাই পুলিশ প্রথমে তার ভিসা, বসবাসের বৈধতা এবং তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর প্রাথমিক যাচাই করে। পরে বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।
এদিকে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। দুবাইয়ে তার পক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন মামলার নথিপত্রও সেখানে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ সরকারি ছুটির কারণে আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত থাকলেও মঙ্গলবার থেকে বিচারিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, আদালতে হাজির করা হলে প্রসিকিউশনের আবেদনের বিপরীতে তার আইনজীবী জামিন চাইতে পারেন। আর আদালতে উপস্থাপন না করা হলে প্রসিকিউশন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আবেদন জমা দেওয়া হবে।
অভিযোগে নাম আসা সংসদ সদস্যের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বাংলাদেশ পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে বেনজীর বর্তমানে দুবাই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তবে আটক প্রক্রিয়াটি কেবল ইন্টারপোলের নিয়মিত কার্যক্রমের ফল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো প্রভাবও ছিল- সে প্রশ্ন এখনো আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আইন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, প্রত্যর্পণ একটি জটিল প্রক্রিয়া। এতে দুই দেশের আইন, বিদ্যমান চুক্তি, মামলার ধরন এবং আদালতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে আদালত প্রক্রিয়া শুরু হলেও দ্রুত তাকে বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বেনজীর আহমদের আটকের ঘটনা এখন নতুন প্রশ্ন ও নানা দাবির জন্ম দিয়েছে। দুবাইয়ের আদালতে পরবর্তী শুনানি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থানই নির্ধারণ করবে তার আইনি ভবিষ্যতের পরবর্তী পথ।
এএন