স্পোর্টস ডেস্ক
জুন ১৫, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
পারিবারিক শিকড় ও আবেগ থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিউনিসিয়ার হয়ে না খেলে সুইডেনকে বেছে নেওয়া মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারি আবারও আলোচনায়। ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই তিনি মুখোমুখি হন নিজের পরিবারের শেকড়ের দেশ তিউনিসিয়ার।
ম্যাচের শুরুতেই, মাত্র ৭ মিনিটে তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে বক্সের বাইরে থেকে শক্তিশালী শটে গোল করেন ব্রাইটনের এই মিডফিল্ডার। সুইডেনকে এগিয়ে দেওয়ার সেই মুহূর্তে তিনি কোনো ধরনের উচ্ছ্বসিত উদযাপন করেননি। বরং দুই হাত জোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং মাঠে সিজদা দিয়ে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
আয়ারির পারিবারিক ইতিহাস তিউনিসিয়ার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তার মা তিউনিসিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন, এবং দীর্ঘদিন ধরে তাকে ওই দেশের হয়ে খেলার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আগেও তিউনিসিয়া ফুটবল ফেডারেশন তাকে দলে নিতে আগ্রহ দেখায়। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সুইডেন জাতীয় দলকেই প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন।
স্টকহোমের সোলনা শহরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা আয়ারি সবসময় বিশ্বাস করেছেন, যে দেশ তাকে বড় করেছে, সেই দেশের হয়েই মাঠে নামা তার দায়িত্ব। তার এই সিদ্ধান্তে পরিবারেরও সমর্থন ছিল।
তবে তিউনিসিয়ার সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। তার ছোট ভাই তাহা এখনও তিউনিসিয়া জাতীয় দলের নজরদারিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে, কারণ দলটি ইউরোপে জন্ম নেওয়া তিউনিসীয় বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের ওপর নজর রাখছে।
ম্যাচে প্রথম গোলের পর বিরতির আগেই আরেকটি গোল করেন আয়ারি। তার জোড়া গোলে সুইডেন শেষ পর্যন্ত তিউনিসিয়াকে ৫–১ ব্যবধানে পরাজিত করে।
দুই গোল করলেও আয়ারির উদযাপন ছিল সংযত। ম্যাচ শেষে তিনি সতীর্থদের সঙ্গে জয় উদযাপন করলেও মাঠে তার ক্ষমা চাওয়ার দৃশ্যটি বিশ্বকাপের শুরুতেই ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এএন