আশরাফুল আলম, চুয়াডাঙ্গা
জুন ২৭, ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় প্রবাসীর ১৫ বছর বয়সী ছেলে রাফিজ মিয়াকে অপহরণের পর ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি লাল্টু মিয়াকে (৪১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশিও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নলিয়া গ্রামের জামালপুর বাজার এলাকা থেকে লাল্টু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের কিশোর রাফিজ মিয়া একটি ফোনকল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। রাত ১১টার দিকে তার দাদি আমেনা খাতুনের মোবাইল ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। ফোনে রাফিজের কান্নার শব্দ শুনিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেয় অপহরণকারীরা।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রাফিজের বাবা দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে এই অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে রাফিজকে মোটরসাইকেলে তুলে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খালের পাশে নেওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করার পাশাপাশি পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। পরে টাকা না পেয়ে ওই রাতেই গলায় রশি পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ অর্জুন খালে ফেলে দিয়েও রাফিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে আরও কয়েক দফা মুক্তিপণ দাবি করে আসছিল আসামিরা।
ঘটনার আট দিন পর, গত ১৩ জুন কুতুবপুরের লাল ব্রিজ মাঠসংলগ্ন অর্জুন খালের পাশের একটি পুকুর থেকে রাফিজের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে ১০ জুন রাফিজের দাদি আমেনা খাতুন বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি) ও আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি যৌথ দল কাজ শুরু করে। অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজবাড়ী থেকে প্রধান পলাতক আসামি লাল্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে লাল্টু মিয়া হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করা হয়। আদালতে সোপর্দ করার পর তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদেরও দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে।
জেএইচআর