গাজীপুর প্রতিনিধি
জুন ২৭, ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) বাস্তবায়নাধীন ‘নতুন ০৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি)’ শীর্ষক প্রকল্পের অগ্রগতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার গাজীপুরে ব্রি মিলনায়তনে ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রগতি ২০২৫-২৬ এবং কর্মপরিকল্পনা ২০২৬-২৭’ শীর্ষক এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং ব্রির মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) আফসারী খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. রাশিদা ফেরদৌস, এনডিসি। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা অনুবিভাগ) মির্জা আশফাকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রির পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. রফিকুল ইসলাম এবং পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) ড. আমিনুল ইসলাম।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এলএসটিডি প্রকল্পের পরিচালক ও ব্রির ফার্ম মেশিনারি অ্যান্ড পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ড. মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ব্রি ধান-১১৬, ব্রি ধান-১১৭ এবং ব্রি হাইব্রিড ধান-১০ এই তিনটি নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন ও অবমুক্ত করা হয়েছে। নতুন এই জাতগুলো দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ত ও জলাবদ্ধ এলাকায় ধানের ফলন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পের আওতায় নতুন করে ১০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রযুক্তি গ্রামে আউশ, আমন ও বোরো মৌসুমে রাইস গার্ডেন স্থাপন, প্রদর্শনী প্লট তৈরি, কৃষক প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার এবং গবেষণা-সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে কৃষক ও গবেষকদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণের গতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. রাশিদা ফেরদৌস বলেন, এলএসটিডি প্রকল্পের মাধ্যমে অর্জিত স্থানভিত্তিক গবেষণা, জ্ঞান ও প্রযুক্তি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিলে ধানের লাভজনক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। এই প্রকল্পের অর্জন ভবিষ্যৎ গবেষণা পরিকল্পনা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং কৃষি উন্নয়ন নীতি প্রণয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে আফসারী খানম বলেন, এলএসটিডি প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় জার্মপ্লাজম সংরক্ষণ, গবেষণা কার্যক্রম জোরদার এবং কৃষকদের মাঝে আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তিনি প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক ও ব্রির হাইব্রিড রাইস বিভাগের সিনিয়র সাইন্টিফিক অফিসার ড. আফছানা আনছারী। এতে ব্রির প্রধান কার্যালয়, আঞ্চলিক কার্যালয় ও স্যাটেলাইট স্টেশনের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং কৃষক প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, ৫ বছর মেয়াদি এলএসটিডি প্রকল্পের সময়সীমা জুলাই ২০২৩ থেকে জুন ২০২৮ পর্যন্ত। প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক কার্যালয় ও স্যাটেলাইট স্টেশনগুলো স্থানীয় মাটি, জলবায়ু ও কৃষি-প্রতিবেশ অনুযায়ী গবেষণা পরিচালনা করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো গবেষণা অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপযোগী স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে ব্রির গবেষণা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা।
জেএইচআর