মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
জুলাই ৩, ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আঞ্চলিক সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘হাটুভাঙ্গা সেতু’তে বহুল আলোচিত মোটরসাইকেলের টোল আদায় প্রক্রিয়া অবশেষে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর বিশেষ ও সরাসরি হস্তক্ষেপে সেতুর নতুন ইজারাদার মাসুদুর রহমান মোটরসাইকেল থেকে আর কোনো টোল না নেওয়ার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
তথ্যমতে, চলতি জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে নতুন অর্থবছরের টোল আদায় কার্যক্রম শুরু হয়। সরকারি নির্ধারিত শিডিউল ও নিয়ম মেনে ইজারাদার প্রতি মোটরসাইকেল বাবদ ৫ টাকা করে টোল আদায় শুরু করেন। তবে সেতু দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী হাজারো বাইকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। জনমানুষের এই ক্ষোভ ও ভোগান্তির বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যের নজরে এলে তিনি দ্রুত মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে জরুরি আলোচনা করেন। পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইজারাদারের সাথে কথা বলা হলে তিনি মোটরসাইকেলের টোল আদায় বন্ধে রাজী হন।
হাটুভাঙ্গা সেতুর ইজারাদার মাসুদুর রহমান এই বিষয়ে বলেন, সরকারি শিডিউল অনুযায়ীই টোল ধরা হয়েছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও সেতু ব্যবহারকারী সর্বস্তরের মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে মোটরসাইকেলের টোল আদায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন এই খাত থেকে প্রায় ৫ হাজার টাকা, অর্থাৎ মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা এবং তিন বছরের ইজারার পুরো মেয়াদে আনুমানিক ৫৪ লাখ টাকা রাজস্ব আসার সম্ভাবনা ছিল। আমার ব্যক্তিগত বড় আর্থিক ক্ষতি হলেও জনস্বার্থে ও এমপির প্রতি সম্মান জানিয়ে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব জানান, সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর আন্তরিক মধ্যস্থতা ও হস্তক্ষেপে ইজারাদারের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করে হাটুভাঙ্গা সেতুতে মোটরসাইকেলের টোল আদায় বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ও নিয়মিত যাতায়াতকারীরা বড় স্বস্তি পাবেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী তিন বছরের জন্য সর্বমোট ৮ কোটি ৯২ লাখ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে হাটুভাঙ্গা সেতুর ইজারা রাইট পান ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান।
জেএইচআর