মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
জুলাই ৩, ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, আগে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা খুন করে, গুম করে এবং জেলে নির্যাতন করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা শেষ রক্ষা করতে পারেনি।
প্রবাদ আছে- ‘আল্লাহর মাইর, দুনিয়ার বাইর’। আল্লাহ যদি কাউকে বাঁচায়, তবে কেউ তাকে মারতে পারে না; আবার আল্লাহ যাকে ধরেন, তাকে কেউ বাঁচাতে পারে না। বিগত শাসকেরা সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাট করেছে। অবশেষে জনগণের তীব্র রোষানলে পড়ে তারা দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে নেত্রকোনার মদন উপজেলার উচিতপুর ট্রলার ঘাটে হাওরের উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার আগে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম তালুকদারের সভাপতিত্বে পথসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দ, পৌর বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদিরের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন- সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক।
মাদক চোরাচালান ও দেশের যুবসমাজ ধ্বংসের চক্রান্ত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আগের সরকারের আমলে বাংলাদেশে মাদকের ভয়াবহ সয়লাব হয়েছিল। তারা সচেতনভাবেই এ কাজ করেছিল। অথচ আমাদের দেশে কোনো মাদকের কারখানা নেই। দেশকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে পাশের রাষ্ট্র থেকে মাদক ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার তা কঠোর হস্তে দমনে কাজ করে যাচ্ছে। মাদকের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট ‘জিরো টলারেন্স’।
হাওরাঞ্চলের স্থানীয় মৎস্যজীবী ও জনসাধারণের উদ্দেশ্যে মৎস্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি মা মাছ প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ পোনা প্রজনন করে। এই প্রাকৃতিক সম্পদকে রক্ষা করার মূল দায়িত্ব আপনাদের। আপনারা যদি আগামী পাঁচ মাস কারেন্ট জাল বা ক্ষতিকর উপায়ে পোনা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকেন, তবে মাছের উৎপাদন কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
এখন যে মাছটি আপনারা মাত্র ১০ টাকায় ধরে ফেলছেন, পাঁচ মাস পর সেটি বড় হলে এর অর্থনৈতিক মূল্য ও পরিমাণ অনেক বৃদ্ধি পাবে। এক সময় বলা হতো ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’। আমরা সেই গৌরব ফিরিয়ে আনতে চাই।’ সমাপনী বক্তব্যে তিনি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
জেএইচআর