নুরুল ইসলাম সুমন, চকরিয়া (কক্সবাজার)
জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার টানা চতুর্থ দিনের মতো দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দুই হাজারের বেশি বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে বন্যা ও পানিতে ডুবে নিহত তিনটি পরিবারের হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।
দিনের প্রথম কর্মসূচিতে সকাল ১১টায় সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের মানিকপুর নতুন বাজারে সহস্রাধিক বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। পরে দুপুর ১২টায় হারবাং ইউনিয়নের নোয়াপাড়া এলাকায় পানিবন্দি মানুষের মাঝেও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বিকেল ৩টায় বরইতলী ইউনিয়নের শান্তি বাজার এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে নিহত পটিয়া মাদ্রাসার ছাত্র হাফেজ আতাউল্লাহর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান জামায়াত নেতারা এবং পরিবারের হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এরপর বিকেল ৪টায় চকরিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পালাকাটা এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে নিহত দেড় বছর বয়সী শিশু মোহাম্মদ হাসানের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানিয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
বিকেল সাড়ে ৪টায় ফাঁসিয়াখালীর মুসলিম নগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত হায়দার আলীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নগদ অর্থসহায়তা প্রদান করা হয়। এ সময় নিহতের সন্তানদের লেখাপড়ার খোঁজখবরও নেন জামায়াত নেতারা।
ত্রাণ বিতরণ ও সহায়তা কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমেদ আনোয়ারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমির ও সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল বশর, চকরিয়া পৌর আমির আরিফুল কবির, হারবাং ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা শেখ আহমদ, বরইতলী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি জায়েদুল ইসলাম, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাস্টার মিনহাজ উদ্দিন, সাবেক ছাত্রনেতা ও সমাজসেবক মনসুর আলম, সাবেক ছাত্রনেতা আসহাব উদ্দিন আসাদ, পৌর ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি রেজাউল করিম, সেক্রেটারি হাফেজ এহসানুল হকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় বহু পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। কোনো দুর্গত পরিবার যেন ত্রাণসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সমাজের বিত্তবানদের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানান।
নেতৃবৃন্দ নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে ভবিষ্যতেও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
এএন