মো. শাহজাহান ফকির, নান্দাইল (ময়মনসিংহ)
জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের মাত্র দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা এখন চারটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা এলেই রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বছরের পর বছর এমন ভোগান্তি চললেও রাস্তাটি সংস্কার বা পাকাকরণের উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, আচারগাঁও ইউনিয়নের ধরগাঁও বাজার থেকে দক্ষিণ দিকে ধরগাঁও উকুন্দিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কামালাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে পার্শ্ববর্তী মুশুল্লী ইউনিয়নের সরকারবাড়ি পর্যন্ত সড়কটি বর্তমানে অত্যন্ত বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ধরগাঁও উকুন্দিপাড়া, বিলপাড়া, ব্যাপারীপাড়া ও ধরগাঁও খালপাড়াসহ আশপাশের গ্রামের মানুষকে হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। রাস্তাজুড়ে খানাখন্দ ও পিচ্ছিল কাদার কারণে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি কিন্ডারগার্টেন এবং একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রায়ই তারা পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে গিয়ে বই-খাতা ও ইউনিফর্ম নষ্ট করে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় এলাকার কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকরা উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারে নিতে পারেন না। এছাড়া অসুস্থ রোগী ও প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
মালয়েশিয়া প্রবাসী আশরাফুল ইসলামসহ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “ভোটের সময় প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু নির্বাচনের পর আর তাদের দেখা পাওয়া যায় না। আমরা এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই। উন্নয়নের ধারায় আমাদের এলাকাও যুক্ত হোক। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্য প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. খোকন মিয়া বলেন, রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং এটি প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আপাতত চলাচলের সুবিধার জন্য কিছু স্থানে ইটের সুরকি বা রাবিশ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আচারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া রেণু বলেন, রাস্তাটিতে আগে দুইবার মাটি ভরাট করা হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে তা ধুয়ে গেছে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বিষয়টি তথ্য প্রতিমন্ত্রীর নজরে আনলে দ্রুত ইটের সলিং বা পাকাকরণের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণ করা হলে চারটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত, শিক্ষা, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় স্বস্তি ফিরবে।
এম জি