গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি
জুলাই ১৯, ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
মেহেরপুরের গাংনীতে একটি এতিমখানায় হুসাইন (৯) নামের এক আবাসিক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে শিশুটির মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত হুসাইন গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের আযান গ্রামের বিপ্লব হোসেনের ছেলে। এতিমখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটি মানসিক প্রতিবন্ধী ছিল।
এতিমখানার সুপারিনটেনডেন্ট মিজানুর রহমান জানান, রোববার সকাল ৮টার দিকে এতিমখানার শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিজস্ব জমির আগাছা পরিষ্কারের কাজ চলছিল। এ সময় হুসাইন এতিমখানার সিঁড়িতে বসে খেলছিল।
তিনি জানান, কিছুক্ষণ পর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরিয়ার (১৩) রুমে গিয়ে হুসাইনকে মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় তার শরীরের পাশে রক্ত দেখতে পেয়ে সে দ্রুত বাবুল হুজুর ও সুপারিনটেনডেন্টকে বিষয়টি জানায়।
পরে এতিমখানা কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মাহাবুবুর রহমান নয়ন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তার গলায় চিপ দেওয়ার মতো লালচে-কালচে দাগ দেখা গেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
ঘটনার খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিক মোর্শেদ চৌধুরী জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, পরিচ্ছন্নতার কাজ চলাকালে শিশুটির সিঁড়িতে একা থাকা এবং পরে পাশের কক্ষে রক্ত পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
এম জি