ইবি প্রতিনিধি
জুলাই ১৯, ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী শহীদ সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যার এক বছর পূর্তিতে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার দীর্ঘসূত্রিতার প্রতিবাদ এবং নিহতের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানান তারা।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত সাজিদ আবদুল্লাহর বাবা, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ‘সাজিদ আবদুল্লাহর হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’, ‘সাজিদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘খুনির ফাঁসি চাই’, ‘পরিবারকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে’, ‘বিচার পেতে আর কত দিন-জবাব দাও’ এবং ‘বিচারের নামে টালবাহানা চলবে না’ এমন বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যায়।
নিহত সাজিদ আবদুল্লাহর বাবা বলেন, ছেলেকে হারিয়ে আমি বাকরুদ্ধ। এক বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যাকে হারিয়েছি, তাকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু হত্যার সঙ্গে জড়িতরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল থাকলেও ঘটনাস্থলের ক্যামেরাটি কেন অকেজো ছিল, সেটিও প্রশ্নের জন্ম দেয়। ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ও কঠোর হতে হবে। পাশাপাশি মানববন্ধনে উত্থাপিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবি শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, হত্যাকাণ্ডের এক বছর পার হলেও প্রশাসন ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন কিংবা অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারেনি। নিহতের পরিবারকে কোনো আর্থিক সহায়তা বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। অধিকার নিয়ে কথা বললেই বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়, যা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনকে সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে, অন্যথায় তাদের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত।
ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, হত্যার রহস্যও উদ্ঘাটিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা এ ঘটনায় স্পষ্ট। প্রশাসন বিষয়টি রাষ্ট্রীয় সংস্থার ওপর চাপিয়ে দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। অথচ নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই দিয়েছিল। নতুন নির্মিত হলটি শহীদ সাজিদ আবদুল্লাহর নামে নামকরণ এবং তার পরিবারকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানাই। পাশাপাশি পুরো ক্যাম্পাসকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এম জি