মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
জুলাই ২৫, ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে স্ত্রীর ওপর রাগ করে নয়নী রাজবংশী (৬৪) নামে এক নারী নির্মাণ শ্রমিককে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তিন দিন পর পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করেছে। বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে লৌহজং নদীর মির্জাপুর পৌর এলাকার আন্ধরা গ্রামের কাদের মিয়ার বাড়ির পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নয়নী রাজবংশী পৌর এলাকার আন্ধরা গ্রামের মরণ রাজবংশীর স্ত্রী। এ ঘটনায় পোস্টকামুরী গ্রামের মোজাফ্ফর মিয়ার ছেলে নির্মাণ শ্রমিক রবিউল মিয়াকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মির্জাপুর আমলি আদালতে হাজির করা হলে রবিউল দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
পুলিশ জানায়, রবিউল ও নয়নী রাজবংশী একসঙ্গে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এ কারণে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি হয়। রবিউল মাঝেমধ্যে নয়নী রাজবংশীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। বিষয়টি রবিউলের স্ত্রী ভালোভাবে না নিয়ে সন্দেহ করতে থাকেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা লেগেই থাকত। এরই মধ্যে জানু নামে নির্মাণ শ্রমিকদের সর্দারের সঙ্গে নয়নীর অনৈতিক সম্পর্ক রবিউল দেখে ফেলে।
গত ঈদুল আজহার আগের দিন রবিউলের স্ত্রী অভিমান করে বাবার বাড়ি উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বুড়িহাটি গ্রামে চলে যান। এরপর তিনি আর স্বামীর বাড়িতে ফেরেননি। এর জের ধরে রবিউল নয়নী রাজবংশীর ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং সুযোগ খুঁজতে থাকেন।
গত ২১ জুলাই রাত ১১টার দিকে রবিউল নয়নীর বাড়িতে গিয়ে ঘুম থেকে ডেকে তুলে তাকে নিয়ে পোস্টকামুরী দক্ষিণপাড়ায় যান। রবিউলের সঙ্গে নয়নীকে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে অনেকেই দেখেন। রবিউল নয়নীর সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করতে চাইলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে রবিউল নয়নীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং মারা যাওয়ার পর ধর্ষণ করে।
রাতে এবং পরদিন নয়নী বাড়িতে না ফেরায় মেয়ে টুম্পা রাজবংশী (৩০) রবিউলকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ রবিউলকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, নয়নীর সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে- এমন সন্দেহে তার স্ত্রী চলে যান। এই রাগে তিনি কৌশলে নয়নীকে ডেকে এনে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর কাদের মিয়ার বাড়ির পাশে লৌহজং নদীর ঝোপের মধ্যে ফেলে দেন।
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত দেড়টার দিকে নয়নী রাজবংশীর লাশ সুরতহাল শেষে উদ্ধার করে পুলিশ।
মির্জাপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদ ফজল জানান, রবিউলের স্ত্রী ঝগড়া করে চলে যাওয়ায় রাগের বশে সে নয়নীকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লৌহজং নদীর পাড় থেকে নয়নী রাজবংশীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া রবিউলকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হলে তিনি হত্যা ও ধর্ষণের দায় স্বীকার করেছেন।
এএন