নুরুল ইসলাম সুমন, চকরিয়া (কক্সবাজার)
জুলাই ২৭, ২০২৬, ১১:৫০ এএম
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ১০ নম্বর চিরিংগা ইউনিয়নে সাম্প্রতিক বন্যায় অন্তত ১৫০টিরও বেশি পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে দিনমজুর, নিম্নআয়ের ও খেটে খাওয়া অসংখ্য পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয় হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয়দের দাবি, বন্যার প্রবল স্রোত ও টানা বৃষ্টিতে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও ঘরের চাল উড়ে গেছে, কোথাও দেয়াল ধসে পড়েছে, আবার অনেক বসতঘর বসবাসের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার কেউ ভাঙাচোরা ঘরেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন।
বন্যার পানি নেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। জীবিকা হারানোর পাশাপাশি মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয় না থাকায় অনেক পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অর্থাভাবে নিজেদের উদ্যোগে ঘরবাড়ি সংস্কার করাও তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, “সাম্প্রতিক বন্যায় ১০ নম্বর চিরিংগা ইউনিয়নের অনেক অসহায় পরিবারের একমাত্র বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও ঘরের চাল উড়ে গেছে, কোথাও দেয়াল ধসে পড়েছে, আবার অনেক ঘর সম্পূর্ণ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব পরিবারের অধিকাংশই দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ। তাদের পক্ষে নিজস্ব অর্থে ঘরবাড়ি সংস্কার করা সম্ভব নয়। অনেক পরিবার এখনো ভাঙাচোরা ঘরে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে, আবার কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা করে সরকারি সহায়তা, ঘরবাড়ি সংস্কার এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।”
এনসিপির নেতা সাজ্জাদ বলেন, “বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অধিকাংশই নিম্নআয়ের মানুষ। তাদের পক্ষে নিজস্ব অর্থে ঘরবাড়ি মেরামত করা সম্ভব নয়। তাই দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি সহায়তা, ঘরবাড়ি সংস্কার এবং টেকসই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রণয়ন করে দ্রুত ঘরবাড়ি সংস্কার, পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিলে বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।
এএন