ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

এক মাস সময় বাড়ল আয়কর রিটার্ন জমার এনবিআর

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

নভেম্বর ২৩, ২০২৫, ০৬:০৭ পিএম

এক মাস সময় বাড়ল আয়কর রিটার্ন জমার এনবিআর

দেশের ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা আরও এক মাস বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রোববার জারি করা এক বিশেষ আদেশে জানানো হয়, চলতি করবর্ষের রিটার্ন জমার সর্বশেষ সময় আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলো। পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা ছিল ৩০ নভেম্বর।

সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন ও প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে যেসব করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারছেন না, তাঁদের জন্য আলাদা সুযোগও রেখেছে এনবিআর। নতুন আদেশ অনুযায়ী, এসব করদাতা ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে সুনির্দিষ্ট যুক্তিসহ আবেদন করতে পারবেন।

এনবিআর এ বছর প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। তবে কিছু শ্রেণির করদাতা এ বিধান থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। অব্যাহতি পাওয়া শ্রেণিগুলো হলো- ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অক্ষম বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক।

যাঁরা অব্যাহতি পেয়েছেন, তাঁদের জন্য অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক না হলেও তাঁরা ইচ্ছা করলে ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ, করদাতারা স্বেচ্ছায় অনলাইনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

এ বছর করদাতাদের সুবিধা বাড়াতে এনবিআর কয়েকটি নতুন ব্যবস্থা যুক্ত করেছে।

১. ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি দ্বারা অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ: করদাতার অনুমোদিত প্রতিনিধি করদাতার পক্ষ থেকে অনলাইনে ই-রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। এতে ব্যস্ত বা বিদেশে থাকা ব্যক্তিরা উপকৃত হবেন।

২. বিদেশে অবস্থানরত করদাতাদের জন্য বিশেষ প্রক্রিয়া: দেশে না থাকলেও বিদেশে বসে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করা যাবে। এ জন্য করদাতাকে ই-মেইলে ([email protected]) পাঠাতে হবে- পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা।

আবেদন যাচাই শেষে করদাতার ই-মেইলে পাঠানো হচ্ছে নিবন্ধন লিংক ও ওটিপি। এর মাধ্যমে বিদেশে থেকেও সহজে রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব হচ্ছে।

৩. ফাইল আপলোডের ঝামেলা ছাড়াই রিটার্ন দাখিল: কোনো দলিল বা কাগজপত্র আপলোড না করেই করদাতারা তাঁদের আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য পূরণ করে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে ঘরে বসে কয়েক মিনিটেই।

ই-রিটার্ন সিস্টেমের সঙ্গে সমন্বয় করে কর পরিশোধ প্রক্রিয়াও আরও দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত করা হয়েছে। করদাতারা এখন বাড়িতে বসেই নিম্নোক্ত মাধ্যমে কর পরিশোধ করতে পারবেন- ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি)।

রিটার্ন জমা দেওয়ার সঙ্গে সাথেই পাওয়া যাবে স্বয়ংক্রিয় রিটার্ন দাখিলের স্লিপ। প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে একইভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর সনদ প্রিন্ট করার ব্যবস্থাও আছে।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, চলতি করবর্ষে এখন পর্যন্ত ১৮ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক হওয়ায় করদাতাদের অংশগ্রহণে গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। এনবিআরের কর্মকর্তাদের ভাষায়, করদাতারা প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং সময় সাশ্রয়ের কারণে অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থায় ক্রমাগত আগ্রহ বাড়াচ্ছে।

কর বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি কারণে সময়সীমা বাড়ানো আবশ্যক ছিল- নতুন সিস্টেমে রূপান্তরের ফলে অনেক করদাতা প্রথম বছর কিছুটা বিভ্রান্ত ছিলেন- রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কারিগরি জটিলতা, করদাতার সংখ্যা বাড়ায় সার্ভার-লোড বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা এবং চাকরিজীবীদের মাসের শেষের ব্যস্ততা।

এনবিআর অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর সবার সুবিধা বিবেচনা করে সময়সীমা বাড়িয়েছে। করদাতাদের চাপ কমানো এবং সুষ্ঠু রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

এনবিআর মনে করছে, অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হলে- কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়বে, কাগজপত্র জালিয়াতি কমবে, রিটার্ন যাচাই ও অডিট সহজ হবে, করদাতাদের সঙ্গে এনবিআরের যোগাযোগ দ্রুত হবে।

এছাড়া সরকারের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে আর্থিক খাতে স্বয়ংক্রিয়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যও রয়েছে।

সাধারণত সময়সীমার শেষ সপ্তাহে সারা দেশে করজমা অফিসগুলোতে ভিড় দেখা যায়। এবার যেহেতু অনলাইনে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা, তাই ভিড়ের চাপ তুলনামূলক কম হলেও সার্ভার চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই করদাতাদের শেষ সময়ের চাপ এড়িয়ে যত দ্রুত সম্ভব রিটার্ন জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জেএইচআর

Link copied!