ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
আনু মুহাম্মদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে ‘বাংলাদেশের হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে’

আবু তাহের

আবু তাহের

মার্চ ১৩, ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে ‘বাংলাদেশের হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতি, নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কৌশলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। 

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে কার্যত ‘হাত-পা বাঁধা অবস্থায়’ ফেলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, দেশের স্বার্থকে উপেক্ষা করে করা এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তির বিষয়ে জনগণের সামনে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। 

একই সঙ্গে যারা এই চুক্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের নাম প্রকাশ করে তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের পল্টন টাওয়ারে আয়োজিত এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি কেন বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক” শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক ও গবেষক ড. গোলাম রসূল। 

আলোচনায় অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহা মীর্জা।

সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করা হয়েছে তা বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, এই চুক্তির ফলে দেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে স্বাধীনতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে এবং বিভিন্ন খাতে বিদেশি প্রভাব বৃদ্ধি পেতে পারে। 

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই চুক্তি করার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক তৎপরতা দেখা গেছে। নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করার বিষয়টি অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, এত বড় একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি করার আগে বিস্তৃত আলোচনা, জাতীয় পর্যায়ে পর্যালোচনা এবং সংসদে বিতর্ক হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

তিনি মনে করেন, দেশের অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

আনু মুহাম্মদ বলেন, নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারপ্রধান “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগান দিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে যদি এমন কোনো চুক্তি করা হয় যা দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তাহলে সেই স্লোগানের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। 

তিনি বলেন, যদি সত্যিই সবার আগে বাংলাদেশ নীতি অনুসরণ করা হয়, তাহলে এই চুক্তিকে সংসদে এনে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। জনগণের প্রতিনিধিরাই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এটাই হওয়া উচিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি। তাঁর মতে, সংসদের বাইরে বা জনগণের অগোচরে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সেমিনারে আনু মুহাম্মদ চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই টার্মিনাল সম্পর্কিত একটি চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শ্রমিকদের প্রতিবাদ ও আন্দোলনের কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। 

তাঁর মতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও অবকাঠামো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, সে সময় সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষ দূত লুতফে সিদ্দিকী এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

আলোচনার এক পর্যায়ে আনু মুহাম্মদ বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অনেক সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে মনে হয় সরকারের ইচ্ছার সঙ্গে আদালতের রায়ের মিল পাওয়া যাচ্ছে। 

তাঁর ভাষায়, বিস্ময় লাগে সরকারের ইচ্ছা যেন আদালত আগে থেকেই বুঝে ফেলে এবং সে অনুযায়ী রায় দেয়। এটি কোন ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা এই ধরনের বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আনু মুহাম্মদের মতে, যদি চুক্তির শর্তাবলী দেশের কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য অনুকূল না হয়, তাহলে অনেক স্থানীয় উৎপাদক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ধস নামতে পারে এবং নতুন করে ব্যাপক বেকারত্ব তৈরি হতে পারে। 

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষক এবং স্থানীয় শিল্পখাত এতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কর আদায়ের হার এখনো তুলনামূলক কম। এই পরিস্থিতিতে কর বাড়ানো প্রয়োজন হলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির কারণে অনেক সময় কর কমানোর চাপ তৈরি হয়। এর ফলে সরকারের রাজস্ব আয় কমে যেতে পারে এবং সামাজিক খাতে ব্যয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

সেমিনারে আনু মুহাম্মদ আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্ব রাজনীতিতে দ্বিমুখী নীতির উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে ইউরোপীয় দেশগুলো অনেক সময় কার্যকর অবস্থান নেয় না। ইরানের ওপর হামলার মতো ঘটনায়ও তাদের শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। 

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় অনেক সময় মনে হয় ছোট বা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বড় শক্তিগুলোর কূটনৈতিক প্রভাবের মধ্যে চলতে হয়। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশ চীন বা রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে কি না সেটিও যেন অনেক সময় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে।

বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয় সক্ষমতা বাড়াতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। আনু মুহাম্মদ বলেন, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এই চুক্তিকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরছেন। কিন্তু সরকারের উচিত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া। 

তাঁর মতে, যদি সরকার এই চুক্তির বিষয়ে সংসদে আলোচনা না করে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করে, তাহলে “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানটি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই থেকে যাবে।

জেএইচআর

Link copied!