আমার সংবাদ ডেস্ক
জুলাই ২১, ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
আমদানি দায়ের বাড়তি চাপ, প্রবাসী আয় ও রপ্তানিতে ধীরগতি এবং আইএমএফের সঙ্গে আলোচনার পর বাজারভিত্তিক বিনিময় হারের প্রত্যাশায় দেশের বাজারে ডলারের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। ব্যাংকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, গত ৩-৪ সপ্তাহ ধরে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।
গত ২০ জুলাই কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা দরে রেমিট্যান্সের ডলার কিনেছে, যা চলতি জুলাই মাসের শুরুর তুলনায় প্রায় ১০ পয়সা বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আন্তঃব্যাংক ডলারে দর ৭৫ পয়সা বেড়ে ১২৩ টাকা ৬০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আন্তঃব্যাংক ডলারের রেফারেন্স রেট ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায় ধরে রাখলেও বাস্তবে এই দরে লেনদেন খুব একটা হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের ট্রেজারি কর্মকর্তারা।
খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে সার ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি খাতের এলসি (ঋণপত্র) পরিশোধের চাপ তীব্র হয়েছে। শুধু জুন মাসেই ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি এলসির দায় মেটানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্চ ও এপ্রিলে খোলা এলসিগুলোর পেমেন্ট জুন ও জুলাইয়ে এসে পরিশোধ করতে হচ্ছে। এছাড়া রমজান মাসে খোলা বেশ কিছু ইউপিএএস এলসির দায়ও চলতি মাসে পরিশোধ করা হচ্ছে।
বিপরীতে ডলারের জোগান আশানুরূপ বাড়েনি। গত জুন মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ২.৮২ বিলিয়ন ডলার, যা বিগত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে এলসি নিষ্পত্তির পরিমাণ ছিল ৭০.৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে বেশি। এতে স্পষ্ট যে রপ্তানি আয়ে ধীরগতি থাকলেও আমদানি চাহিদা অনেক বেশি শক্তিশালী।
বাজারের এই অস্থিরতার পেছনে কিছু ব্যাংকের অতিরিক্ত দামে ডলার কেনার প্রতিযোগিতাকে দায়ী করছেন ট্রেজারি প্রধানরা। সরকারি এলসির দায় মেটাতে কিছু ব্যাংক এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কিনছে এবং পরে তা কম দামে বিক্রি করছে। ডলার বাজারের এই কৃত্রিম অস্থিরতা রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকের পর বিনিময় হার আরও বেশি বাজারনির্ভর হওয়ার জোরালো আভাস পাওয়া গেছে। আইএমএফের আপত্তির পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগের নির্ধারিত রেফারেন্স রেটের পরিবর্তে ওয়েবসাইটে সরাসরি চলতি আন্তঃব্যাংক দর প্রকাশ শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলায় বর্তমানে ডলারের দর নির্ধারণে অনানুষ্ঠানিকভাবে কোনো হস্তক্ষেপ করছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
জেএইচআর