আমার সংবাদ ডেস্ক
জুলাই ২২, ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
দেশের ফ্রিল্যান্সার ও ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন আরও সহজ ও যুগোপযোগী করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ডিজিটাল সেবাখাতে কর্মরতরা আগের তুলনায় কম আনুষ্ঠানিকতায় বিদেশ থেকে আয় দেশে আনতে পারবেন।
বুধবার (২২ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈদেশিক আয় গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রচলিত রপ্তানি নথির ওপর নির্ভরতা কমানো হয়েছে। এখন থেকে ইমেইল, প্ল্যাটফর্মের হিসাব বিবরণী এবং অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগকে লেনদেনের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হবে। ফলে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল বাণিজ্যের সঙ্গে দেশের লেনদেন ব্যবস্থা আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
ছোট অঙ্কের বৈদেশিক আয় দেশে আনার ক্ষেত্রেও শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অন্তর্মুখী রেমিট্যান্স গ্রহণের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে না।
এ ছাড়া অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণ করা যাবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই অর্থ দেশে আনতে হবে।
লেনদেন আরও সহজ ও কার্যকর করতে দ্বৈত মুদ্রাভিত্তিক ফ্রিল্যান্সার কার্ড চালুর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল আর্থিক সেবা এবং পেমেন্ট সেবা প্রদানকারীদের ব্যবহারের সুযোগও আরও বাড়ানো হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ সুবিধার আওতায় রাখতে পারবেন।
অন্যদিকে, অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য এ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ শতাংশ। এর ফলে আন্তর্জাতিক ব্যয় ব্যবস্থাপনায় তারা আরও বেশি স্বাধীনতা পাবেন।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। এতে ফ্রিল্যান্সারদের বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক আয় দেশে আনতে উৎসাহ বাড়বে। একই সঙ্গে সেবা রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হবে।
এম জি