আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুলাই ২২, ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ভারতের রাজধানী দিল্লির ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি)। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আকস্মিক এই পদক্ষেপের ফলে অফিসগামী চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
চলমান বিক্ষোভ ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে- লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চৌক, প্যাটেল চৌক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম।
সূত্র জানায়, গত সোমবার ও মঙ্গলবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর বিক্ষোভ ও সংসদ ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একই সময়ে কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি (এএপি) ও সমাজবাদী পার্টিসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের বিক্ষোভও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
এর পাশাপাশি পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশের কৃষকদের ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কৃষি চুক্তিবিরোধী আন্দোলন এবং কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে দিল্লির সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও বিক্ষোভ চলছে। মূলত রাজধানীর ভেতরের বিক্ষোভে বাইরের আন্দোলনকারীরা যাতে যোগ দিতে না পারেন, সেই লক্ষ্যেই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, প্রশাসনিক এলাকা এবং সংবেদনশীল স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ডিএমআরসি জানিয়েছে, বন্ধ স্টেশনগুলোতে আপাতত যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে সংশ্লিষ্ট রুটে ট্রেন চলাচল চালু থাকবে এবং ট্রেনগুলো বন্ধ স্টেশনগুলোতে না থেমেই চলে যাবে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ধাপে ধাপে স্টেশনগুলো পুনরায় চালু করা হবে।
জেএইচআর