Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ২৫ মে, ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

মালয়েশিয়া প্রবাসীদের সাথে হাইকমিশনারের ঈদ পূর্ণমিলনি উদযাপন 

নিজস্ব প্রতিনিধি

মে ৯, ২০২২, ১২:২২ পিএম


মালয়েশিয়া প্রবাসীদের সাথে হাইকমিশনারের ঈদ পূর্ণমিলনি উদযাপন 

প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়ার দূতাবাসের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ার ক্যামেরুন হাইল্যান্ড প্রদেশে অবস্থানরত শ্রমজীবী প্রবাসীদের সাথে ঈদ পূর্ণমিলন ও বৈশাখী উদযাপন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। 

রোববার (৮ মে) বিকেল ৫ টায় হোটেল টিটিওয়াংসা হল রুমে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত প্রবাসীদের পরামর্শ ও বিভিন্ন সমস্যা কথা শোনেন হাইকমিশনার। 

বাংলাদেশ দূতাবাসের ফাস্ট সেক্টেটারি জি এম রাসেল রানার মনোমুগ্ধকর সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে সাধারণ প্রবাসীদের পাশাপাশি স্থানীয় নিয়োগ কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এসময় নিয়োগ কর্তারা তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশি কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা  করেন এবং  নতুন করে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তারা। 

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-মালয়েশিয়াস্থ দূতালয় প্রধান মান্যবর হাইকমিশনার  মোঃ গোলাম সারোয়ার।  

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-শ্রমউইংয়ের প্রধান মিনিস্টার মোঃ  নাজমুজ সাদাত সেলিম, আরো উপস্থিত ছিলেন-ক্যামেরুন হাইল্যান্ড ভেজিটেবল গ্রোয়াস এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান-দাতুক চায় কুক লিম, মালায় ফারমার্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান - দাতুক সাঈদ আবদুল রহমান বিন সাঈদ, ক্যামেরুন হাইল্যান্ড ফ্লোরি কালচার এসোসিয়েশন চেয়ারম্যান-মিষ্টার লি পং ফো সহ উক্ত সংগঠনের অনন্য নেতৃবৃন্দ। 

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, আমরা এই কোভিড-১৯ এর মাঝে গত এক বছরে প্রায় ৩ লক্ষ পাসপোর্ট বিতরণ করেছি, যা সকল দূতাবাসের চেয়ে রেকর্ড পরিমাণ। শ্রমজীবী প্রবাসীদের সাথে সরাসরি খোলামেলা আলোচনা অনুষ্ঠানটি ক্যামেরুন হাইল্যান্ড থেকে শুরু করেছি। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অনন্য প্রদেশ ও দূতাবাসের আয়োজনে অনুষ্ঠান পরিচালিত হবে।

হাইকমিশনার আরো বলেন, খুব শীগ্রই মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যেকার এমওইউ চুক্তি স্বাক্ষরটি বাস্তবায় হবে ইনশাআল্লাহ। তবে এই সমঝোতা  চুক্তি স্বাক্ষর অনুযায়ী মালয়েশিয়া আসার খরচ বহন করবে মালিক পক্ষ। অতিরিক্ত টাকা কেউ দাবি করলে তাদের সাথে লেনদেন না করার পরামর্শ দেন হাইকমিশনার। এবং সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান। 

তবে আপনাদের সহায়তা করার কোন সুযোগ থাকলে অবশ্যই আমরা সহযোগিতা করব। বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ করে  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার বাংলাদেশের যে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির যে সুপার গুলো রচিত হচ্ছে একটির পর একটি এর মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুখী সমৃদ্ধি সোনার বাংলা রেখে যেতে পারব। পরিশেষে আপনাদের সবার জীবন মঙ্গলময় হোক আপনাদের ঈদ ও বৈশাখী উৎযাপন অনেক আনন্দদায়ক এবং মালয়েশিয়ায় আপনাদের অবস্থান সুখকর হোক এবং আপনাদের এই কর্মদক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আপনার এবং আপনার পরিবারের ভবিষ্যত প্রজন্মের উন্নতি কামনা করছি। 

সাধারণ প্রবাসীদের প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, আগামী ৩০শে জুন পযন্ত মালয়েশিয়া অবস্থানরত অবৈধ প্রবাসীরা কেএলআই এয়ারপোর্টে স্পেশাল ডেস্কে  ৫ শত রিঙ্গিত জরিমানা দিয়ে দেশে যেতে পারবে। এবং মালয়েশিয়া বৈধ করণ প্রক্রিয়ার মেয়াদ শেষ হয়েছে তবে যাহারা রেজিষ্ট্রেশন করে রেখেছে তাদেরকে ফিঙ্গার প্রিন্ট করার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। 

বিশেষ অতিথি শ্রমইউংয়ের প্রধান মিনিস্টার মোঃ নাজমুজ সাদাত সেলিম বক্তব্যে, প্রবাসীদের যে কোন সমস্যা দ্রুত সমাধানে ওনার সাথে সরাসরি যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর উপস্থিত সকল সাধারণ প্রবাসীদেরকে দিয়েছেন তিনি। দূতাবাস সবসময় প্রবাসীদের পাশে আছে এবং থাকবে। আজকের অনুষ্ঠানটি সফল ও সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় নিয়োগকর্তা ও উপস্থিত সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। 

মালায় ফারমার্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান দাতুক সাঈদ আবদুল রহমান বিন সাঈদ তার বক্তব্যে, বাংলাদেশি শ্রমিকের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ক্যামেরুন হাইল্যান্ডে বর্তমানে শ্রমিক সংকট। মাত্র ৭/৮ হাজার শ্রমিক কাজ করছে যা করোনা পরবর্তী সময়ে কাজ পরিচালনা করা সম্ভব না। আমাদের আরো ৮/৯ হাজার শ্রমিক প্রয়োজন। এবং এই শ্রমিক আমরা বাংলাদেশ থেকে নিয়োগ দিতে আগ্রহী। কারণ বাংলাদেশি ওয়ার্কার গুলো খুবই ভালো। দ্রুত কাজ শিখতে পারে, দায়িত্ব সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে।বাংলাদেশি শ্রমিকই আমাদের বেশি পছন্দ। 

অনুষ্ঠানে আগত ১১ জন প্রবাসীকে কুপন ড্রয়ের মাধ্যমে পুরস্কার বিতরণী করেন। প্রথম পুরস্কার হিসেবে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্থানীয় নিয়োগ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এমন খোলামেলা আলোচনা ও ঈদ পূর্ণমিলনিতে সাধারণ প্রবাসীরা অংশগ্রহণ করতে পেরে আনন্দিত এবং হাইকমিশনার সহ দূতাবাসের সকল কর্মকর্তাদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন সাধারণ প্রবাসীরা। পাশাপাশি এই ধারা অব্যহত রাখার জন্য মান্যবর হাইকমিশনার কে অনুরোধ জানানো হয়। 

এই  সময় প্রায় দেড়শ প্রবাসী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে একে অপরের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করেন। দূতাবাসের পক্ষ থেকে  আগত সকল প্রবাসীদের  রাতের খাবারের আয়োজন করেন। রাতের খাবারের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।