Amar Sangbad
ঢাকা শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯

গোঁফ রেখে আলোচিত এই নারী!

আমার সংবাদ ডেস্ক

জুলাই ২৫, ২০২২, ১২:১০ পিএম


গোঁফ রেখে আলোচিত এই নারী!

ভারতীয় এক নারী তার গোঁফের কারণে একই সঙ্গে লোকের প্রশংসা এবং নিন্দা দুইটিরই মুখোমুখি হয়েছেন। তবে তিনি বলছেন, তার গোঁফ নিয়ে মানুষের এই আগ্রহে তিনি মোটেই বিচলিত নন।

হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাসে নিজের ছবির নিচে ৩৫ বছর বয়সী শায়জা লিখেছেন, 'আমি আমার গোঁফ পছন্দ করি। ' 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার ছবি দেখে বা যখন কারো সঙ্গে মুখোমুখি দেখা হয়, তখন লোকে জানতে চায়, কেন তিনি গোঁফ রেখেছেন।

 তিনি বলেন, 'আমি একটা কথাই বলি―এটা আমার ভালো লাগে, বেশ ভালো লাগে। '

শায়জা কেবল এই নামেই পরিচিত। থাকেন ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার কান্নুর জেলায়। আরো বহু নারীর মতো তারও ঠোঁটের ওপর বেশ কিছু চুল আছে।

তিনি নিজের ভ্রু নিয়মিত চেঁছে চিকন রাখেন, কিন্তু ওপরের ঠোঁটের ওপর গজানো চুল তুলে ফেলার প্রয়োজন কখনো অনুভব করেননি।

বছর পাঁচেক আগে তার গোঁফ বেশ দৃশ্যমান হয়ে ওঠে এবং শায়জা সিদ্ধান্ত নেন, তিনি গোঁফ রেখে দেবেন। 

তিনি বলেন, 'এখন আমি তো এটা ছাড়া নিজেকে ভাবতেই পারি না। যখন করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হলো, তখন আমি সারাক্ষণ মাস্ক পরে থাকা পছন্দ করতাম না। কারণ এটি আমার মুখ ঢেকে রাখত। '

তবে যারা তাকে দেখেছেন, তাদের অনেকেই গোঁফ কামিয়ে ফেলার পরামর্শ দেন। কিন্তু শায়জা রাজি হননি। তিনি বলেন, 'আমার এটা আছে বা এটা নেই বলে আমি সুন্দরী নই, এটা আমার কখনো মনে হয়নি। '

নারীদের প্রায় সময়ই বলা হয়, তাদের মুখে চুল থাকা বাঞ্ছনীয় নয় এবং তাদের নিয়মিত এগুলো পয়সা খরচ করে কামিয়ে ফেলা উচিত অথবা একটা নির্দিষ্ট আকারের মধ্যে রাখা উচিত। 

মেয়েদের চুল তোলার জন্য বাজারে বহু রকমের জিনিস আছে―ক্রিম, ওয়াক্স স্ট্রিপ, রেজর এবং এপিলেটর। নারীদের টার্গেট করে বাজারজাত করা এসব পণ্য এখন শতকোটি ডলারের ব্যবসা।

কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক নারী এই নিয়ম আর মানছেন না, তারা তাদের মুখের চুল নিয়ে বিড়ম্বিত নন, এমনকি এ নিয়ে তারা গর্ব অনুভব করেন।

শায়জা বলেন, তিনি এখন তার কিশোরী মেয়েকেও একইভাবে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে চান। শায়জার পরিবার এবং বন্ধুরা তার গোঁফ মেনে নিয়েছে। নিজের মেয়েও তাকে প্রায়ই বলে, গোঁফে তাকে ভালোই মানিয়েছে।

তবে রাস্তায় যখন বের হন, তখন লোকজনের মুখে অনেক ধরনের মন্তব্য শুনতে হয়। তিনি বলেন, 'লোকে আমাকে নিয়ে মজা করে, অনেকে বলে, গোঁফ রাখবে ছেলেরা, একটা মেয়ের মুখে কেন গোঁফ থাকবে?'

স্থানীয় গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার খবর বেরিয়েছে। সম্প্রতি তাকে নিয়ে লেখা এক প্রতিবেদন ফেসবুকে শেয়ার হওয়ার পর সেখানে অনেকে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করেছে।

একজন প্রশ্ন করেছে, সে তো নিজের ভ্রু চেঁছে ঠিকই সুন্দর রাখছে, তাহলে ব্লেড দিয়ে গোঁফ কামাতে অসুবিধা কোথায়?

শায়জা পাল্টা বলেছেন, 'এটা তো আমার পছন্দের ব্যাপার। আমি কী রাখব আর কী রাখব না, সেটা তো আমার ব্যাপার। ' 

শায়জার বন্ধুরা ফেসবুকে এসব মন্তব্যের পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শায়জা বলছেন, 'এগুলোতে আমার কিছু আসে-যায় না। সত্যি কথা বলতে কি, মাঝেমধ্যে আমি এগুলো দেখি আর আমার হাসি পায়। '

সূত্র : বিবিসি