কলকাতা প্রতিনিধি
ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫, ০৮:২৬ পিএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন সংগঠনের কয়েক শ সদস্য গেরুয়া পতাকা হাতে নিয়ে উপ-হাইকমিশন অভিমুখে যাত্রা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করে।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও পিটিআই জানিয়েছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতন এবং ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস নামের এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে এদিন বিক্ষোভের ডাক দেয় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি), এবিভিপি ও বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। মিছিলটি দুপুর ২টার দিকে পার্ক সার্কাসের বেকবাগান এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তিন স্তরের ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথ আটকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হাই-সিকিউরিটি জোনে থাকা উপ-হাইকমিশন কার্যালয়ের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পুলিশ বাধা দিলে বিক্ষোভকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে এলাকাটি পরিষ্কার করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।
বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, তারা উপ-হাইকমিশনে একটি স্মারকলিপি জমা দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ তাঁদের গেইটে পৌঁছাতে দেয়নি। এ সময় বেশ কয়েকজনকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হলে অন্য বিক্ষোভকারীরা ভ্যানের সামনে শুয়ে পড়ে বাধা সৃষ্টি করেন।
উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে সেখানে যোগ দেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ অন্য শীর্ষ নেতারা। তারা এই বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানান। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বর্তমানে উপ-হাইকমিশন ও এর আশপাশের এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী, জলকামান ও নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, দিল্লিতেও বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে একই ধরনের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির খবর পাওয়া গেছে। ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আজ সকালেই ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছে বাংলাদেশ সরকার।
ইএইচ