আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫, ১১:২২ এএম
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ২০২১ সালে রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের প্রায় পাঁচ বছর পর এই প্রথম দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিট) থেকে প্রথম ধাপের এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
মিয়ানমারের জান্তা-নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচন তিন ধাপে সম্পন্ন হবে। আজ প্রথম ধাপে রাজধানী নেইপিদো, প্রধান বাণিজ্যিক শহর ইয়াঙ্গুন এবং মান্দালয়সহ জান্তা-নিয়ন্ত্রিত ১০২টি টাউনশিপে ভোটগ্রহণ চলছে। পরবর্তী দুই ধাপের ভোটগ্রহণ আগামী ১১ জানুয়ারি ও ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। তবে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকায় এবং সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে অন্তত ৫৬টি টাউনশিপে নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)-এর অনুপস্থিতি। ২০২৩ সালে জান্তা সরকার দলটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করায় এবং সু চিসহ শীর্ষ নেতারা কারাবন্দি থাকায় এবারের নির্বাচনী ময়দানে তাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। ফলে নির্বাচনে সামরিক বাহিনীর সরাসরি সমর্থনপুষ্ট দল ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (ইউএসডিপি) নিরঙ্কুশ জয় পাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নির্বাচন শুরু হলেও আন্তর্জাতিক মহলে এটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। পশ্চিমা দেশগুলো এবং জাতিসংঘ এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ ও ‘একতরফা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। সু চির ছেলে কিম অ্যারিস এই নির্বাচনকে ‘অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে, মিয়ানমারের রাখাইনসহ বিভিন্ন প্রদেশে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সেনাবাহিনীর তীব্র লড়াই চলমান থাকায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো বেশ নাজুক।
ইএইচ