ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬
আধ্যাত্মিকতার মহাসমুদ্র

কুরআন খতমের রাতে পবিত্র দুই হারামাইনে লাখো মুসল্লির অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১৮, ২০২৬, ১২:৩১ এএম

কুরআন খতমের রাতে পবিত্র দুই হারামাইনে লাখো মুসল্লির অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা

পবিত্র রমজানের ২৭তম রজনী বা কুরআন খতমের বিশেষ মুহূর্তে এক অপার্থিব দৃশ্যের সাক্ষী হলো মুসলিম বিশ্ব। সৌদি আরবের মক্কার মসজিদে হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববীতে গতকাল মঙ্গলবার ১৭ মার্চ রাতে সমবেত হয়েছিলেন লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। দীর্ঘ এক মাস ধরে তারাবির নামাজে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত শেষে সমাপনী দোয়া বা খতমে কুরআন উপলক্ষে এই জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়।

পবিত্র দুই মসজিদ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কুরআন খতমের রাতে উপস্থিত মুসল্লির সংখ্যা গত কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। কয়েক মিলিয়ন মানুষ মক্কার কাবা শরীফ এবং মদিনার সবুজ গম্বুজের ছায়াতলে সমবেত হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও বিশ্বশান্তির জন্য প্রার্থনা করেছেন।

মঙ্গলবার ইফতারের অনেক আগে থেকেই মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদের প্রধান চত্বর, বহুতল ভবন এবং আশেপাশের সড়কগুলো মুসল্লিদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে যায়। হারামাইন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, এদিন মাগরিবের নামাজের সময় থেকেই মক্কার পবিত্র মসজিদের ধারণক্ষমতা পূর্ণ ছিল। তারাবির নামাজের শেষ অংশে যখন ইমাম সাহেব কুরআন খতমের বিশেষ দোয়া শুরু করেন, তখন পুরো মক্কা নগরী যেন স্তব্ধ হয়ে যায়। লাখো মুসল্লির আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি এবং মুসলিম বিশ্বের সংকট নিরসনে ইমাম সাহেবের আবেগঘন মোনাজাত উপস্থিত সবার চোখে অশ্রু এনে দেয়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শহর মদিনাতেও ছিল একই রকম ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ। মসজিদে নববীর বিশাল চত্বর এবং ছাদ ছাপিয়ে মুসল্লিদের সারি পার্শ্ববর্তী আল বাকি কবরস্থান এবং হোটেল এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। কুরআন খতমের এই রাতে মদিনার প্রশান্তি যেন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। দূর দূরান্ত থেকে আসা ওমরাহ পালনকারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা মিলে এক বিশাল ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধন তৈরি করেন।

কয়েক মিলিয়ন মানুষের এই বিশাল ভিড় সামলানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকার ও হারামাইন প্রেসিডেন্সি বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং রোবটের মাধ্যমে জমজমের পানি ও জীবাণুনাশক বিতরণের ফলে এত মানুষের মাঝেও কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি। শত শত অ্যাম্বুলেন্স এবং ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম জরুরি সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। কয়েক হাজার তরুণ স্বেচ্ছাসেবক বিভিন্ন ভাষায় মুসল্লিদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এদিন কয়েক মিলিয়ন লিটার জমজমের পানি সরবরাহ করা হয় যাতে প্রচণ্ড ভিড়েও মুসল্লিদের পিপাসা মিটানো সম্ভব হয়।

২০২৬ সালের রমজান ও কুরআন খতমের এই রাতটি অন্য বছরের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। একদিকে যেমন প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে হারামাইন কর্তৃপক্ষ মুসল্লিদের সেবা দিয়েছে, অন্যদিকে বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝেও এই বিশাল জমায়েত প্রমাণ করেছে যে, ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি অটুট রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুসল্লিরা তাদের নিজ নিজ দেশের পতাকা ছাড়াই কেবল সাদা ইহরাম বা সাধারণ পোশাকে এক কাতারে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছেন যে, আল্লাহর দরবারে সবাই সমান।

কুরআন খতমের রাতের এই বিশাল ভিডিও এবং ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কয়েক কোটি মানুষ সরাসরি এই প্রার্থনা সম্প্রচার প্রত্যক্ষ করেন। বিশেষ করে ড্রোন ক্যামেরায় ধারণ করা মক্কার জনসমুদ্রের ছবি দেখে নেটিজেনরা সৌদি আরবের চমৎকার ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছেন।

কুরআন খতমের এই রাতের মাধ্যমেই মূলত রমজানের বিদায়ী ঘণ্টা বাজতে শুরু করে। এটি কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি হলো আত্মশুদ্ধি এবং নতুন করে জীবন শুরুর শপথ নেওয়ার মুহূর্ত। মক্কা ও মদিনার এই লাখো মানুষের সমাগম সারাবিশ্বের মুসলিমদের মনে আশা জাগিয়েছে যে, কঠিন সময়ের পরেই প্রশান্তি নেমে আসে। পবিত্র দুই মসজিদের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর পর্যন্ত এই ভিড় অব্যাহত থাকবে এবং তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।তথ্যসূত্র: পবিত্র দুই মসজিদ অফিসিয়াল চ্যানেল এবং সৌদি প্রেস এজেন্সি।

জেএইচআর

Link copied!