ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

মার্কিন কংগ্রেসের ভাষণ শেষে হোয়াইট হাউসে রাজকীয় নৈশভোজে রাজা-রানী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০৭:০৫ এএম

মার্কিন কংগ্রেসের ভাষণ শেষে হোয়াইট হাউসে রাজকীয় নৈশভোজে রাজা-রানী

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে এক ঐতিহাসিক ও আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ রাজতন্ত্র এবং মার্কিন গণতন্ত্রের সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় হলো। মার্কিন কংগ্রেসে এক শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণ দেওয়ার পর, রাজা তৃতীয় চার্লস এবং রানী ক্যামিলা এখন হোয়াইট হাউসে তাদের সম্মানে আয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে (State Dinner) যোগ দিয়েছেন। আটলান্টিকের দুই পাড়ের এই মিত্রতার এক নতুন অধ্যায় হিসেবে এই সফরকে দেখা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের সাউথ পোর্টিকো বা দক্ষিণ অলিন্দে রাজা চার্লস এবং রানী ক্যামিলাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। রাষ্ট্রীয় এই নৈশভোজটি ব্রিটিশ রাজদম্পতির সম্মানে বিশেষভাবে আয়োজন করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, প্রভাবশালী রাজনীতিক এবং বিনোদন ও ব্যবসা জগতের দুই দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানসূচীর মধ্যে রয়েছে বিশেষ বক্তৃতা এবং উভয় দেশের সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তোলা মনোজ্ঞ সংগীত পরিবেশনা।

ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের চেয়েও এখানে প্রাধান্য পাচ্ছে দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক।

হোয়াইট হাউসের এই উৎসবমুখর পরিবেশের ঠিক আগেই রাজা তৃতীয় চার্লস মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন। তার ভাষণে উঠে আসে ইতিহাস, আবেগ এবং আগামী দিনের চ্যালেঞ্জের কথা।

রাজা তার ভাষণে জোর দিয়ে বলেন যে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অংশীদারিত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এই সম্পর্ককে কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং একটি 'হৃদয়ের বন্ধন' হিসেবে অভিহিত করেন।

রাজা চার্লস অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে তার প্রয়াত মাতা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের কথা স্মরণ করেন। ১৯৯১ সালে রানী এলিজাবেথ এই একই কক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি ফিরিয়ে এনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি যুক্তরাজ্যের 'গভীর শ্রদ্ধা ও অটুট বন্ধুত্ব' প্রকাশ করেন।

ব্রিটিশ স্বভাবজাত হাস্যরস বা 'ব্রিটিশ হিউমার' রাজার ভাষণে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। তিনি যেমন দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দেন, তেমনি কৌতুকপূর্ণ মন্তব্যের মাধ্যমে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মন জয় করে নেন। তার বক্তব্যের সময় কক্ষটি বারবার করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।

রাজা তার ভাষণের শেষ দিকে কিছুটা গম্ভীর সুর অবলম্বন করেন। তিনি বলেন, 'আমেরিকার প্রতিটি শব্দ বা বাণীর গুরুত্ব এবং অর্থ অনেক গভীর। বর্তমান বিশ্বের অনিশ্চয়তা এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমেরিকার নেতৃত্ব যে অপরিহার্য, তিনি সেটিই বুঝিয়েছেন।

উত্তর আমেরিকা সংবাদদাতা অ্যান্থনি জুরকারের মতে, রাজার এই উক্তিটি শ্রোতাদের মধ্যে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। মিলনায়তনের ভেতর মৃদু গুঞ্জন শোনা যায়—কারো কণ্ঠে ছিল সম্মতির সুর, আবার কারো কণ্ঠে ছিল বৈশ্বিক দায়িত্ব পালনের উদ্বেগ।

রাজা তৃতীয় চার্লসের এই সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ভ্রমণ নয়, বরং ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাজ্য এবং পরিবর্তিত বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বিশেষ সম্পর্কের (Special Relationship) একটি নবায়ন। হোয়াইট হাউসের আলোকজ্জ্বল ডাইনিং টেবিল থেকে শুরু করে কংগ্রেসের ঐতিহাসিক পডিয়াম পর্যন্ত—সবখানেই ফুটে উঠেছে দুই দেশের এক অবিচ্ছেদ্য সহাবস্থানের ছবি।

এই সফরের মাধ্যমে রাজা চার্লস প্রমাণ করলেন যে, রাজতন্ত্র কেবল ঐতিহ্যের প্রতীক নয়, বরং এটি আধুনিক কূটনীতিরও একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।

এএন

Link copied!