আন্তর্জাতিক ডেস্ক
এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০২:১১ পিএম
ব্রিটিশ রাজমুকুটের অন্যতম আকর্ষণ ১০৫ ক্যারেটের ঐতিহাসিক ‘কোহিনূর’ হীরা ভারতে ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করলেন নিউ ইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি। বর্তমানে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। তাঁর এই সফরের মাঝেই কোহিনূর ফেরানোর প্রসঙ্গটি নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক জোহরান মামদানি বুধবার একটি সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি জানান যে, রাজার সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপের সুযোগ হলে তিনি তাঁকে অবশ্যই কোহিনূর হীরা ভারতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করবেন। মেয়রের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন রাজা চার্লস ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের জঙ্গি হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন।
পরবর্তীতে ওই স্মরণসভায় রাজা চার্লস ও মামদানির মধ্যে সংক্ষিপ্ত কথোপকথন হলেও, সেখানে কোহিনূর প্রসঙ্গটি উত্থাপিত হয়েছিল কি না, তা নিয়ে মেয়রের দফতর থেকে নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি। অন্যদিকে, বাকিংহাম প্যালেসও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে।
কোহিনূর হীরাটির মালিকানা নিয়ে কয়েক শতাব্দী ধরে বিতর্ক চলছে। ইতিহাস অনুযায়ী:
এই হীরাটি বিভিন্ন সময়ে ভারতের মুঘল সম্রাট, ইরানের শাহ, আফগানিস্তানের আমির এবং শিখ মহারাজাদের অধীনে ছিল। ১৮৪৯ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পাঞ্জাব অঞ্চল দখলের পর ১০ বছর বয়সী মহারাজা দলীপ সিংকে সিংহাসনচ্যুত করে। ১৮৫০ সালে ভারতের তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসি হীরাটি রানী ভিক্টোরিয়াকে উপহার হিসেবে প্রদানের ব্যবস্থা করেন। ভারতের জন্য কোহিনূর কেবল একটি অমূল্য রত্ন নয়, বরং এটি ব্রিটিশ শাসনামলে হওয়া শোষণ এবং ঔপনিবেশিক অত্যাচারের একটি গভীর প্রতীক।
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই ভারত সরকার বারবার ব্রিটেনের কাছে কোহিনূর হীরাটি ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এই হীরাটি দেশের ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা একটি শিল্পকর্ম। অনেক ভারতীয় মনে করেন, এই হীরা ফেরত দেওয়া হবে ঐতিহাসিক ভুল সংশোধনের একটি বড় পদক্ষেপ।
রাজা চার্লসের এই সফরের সময় মামদানির মন্তব্যটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয় প্রবাসীদের (Diaspora) আবেগকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। একদিকে যখন ব্রিটেন তাদের রাজকীয় ঐতিহ্য বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে ভারত তাদের লুণ্ঠিত সম্পদ পুনরুদ্ধারের দাবিতে অনড়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজা চার্লসের রাজত্বকালে কমনওয়েলথ দেশগুলোর সাথে ব্রিটেনের সম্পর্কের সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে শুরু করে ভারত পর্যন্ত সব দেশই এখন তাদের ঔপনিবেশিক ক্ষতের বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাইছে। এই পরিস্থিতিতে কোহিনূর ফেরত দেওয়ার দাবি কেবল একটি হীরা ফেরানোর লড়াই নয়, বরং এটি আত্মমর্যাদা এবং ইতিহাসের প্রকৃত মালিকানা পুনরুদ্ধারের লড়াই হিসেবেই পরিগণিত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
এএন