আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুন ৩০, ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
সিন্ধু নদীর পানিবণ্টন চুক্তি (ইনডাস ওয়াটারস ট্রিটি) ঘিরে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সতর্ক করে বলেছেন, সিন্ধুর নদীর পানিতে হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।
মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, ভারত পরিকল্পিতভাবে পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তার ভাষ্য, সিন্ধুর পানি পাকিস্তানের কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই অধিকার রক্ষায় প্রয়োজন হলে পাকিস্তান সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত।
কঠোর ভাষায় তিনি বলেন, পাকিস্তানের পানির হিস্যায় কেউ হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে ‘সেই হাত কেটে দেওয়া হবে’। তার এই মন্তব্য দুই দেশের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারারও একই ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে এবং কোনো একক রাষ্ট্রের পক্ষে এটি একতরফাভাবে স্থগিত, বাতিল বা সংশোধন করা সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও পাকিস্তান কূটনৈতিক সমর্থন পাচ্ছে।
আত্তাউল্লাহ তারার আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল অসীম মুনির একাধিকবার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সিন্ধুর পানি পাকিস্তানের জন্য ‘জীবনরেখা’। তাই পানিবণ্টনের বিষয়টিকে ইসলামাবাদ ‘রেড লাইন’ বা আপসহীন ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করছে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে কাশ্মীরের পহেলগামে সংঘটিত এক সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও একজন স্থানীয় বাসিন্দা নিহত হওয়ার পর ভারত ওই ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে। এরপরই নয়াদিল্লি একতরফাভাবে সিন্ধু পানি চুক্তির কার্যকারিতা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই ঘটনার পর থেকেই দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে পানিবণ্টন ইস্যুকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এএন