আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ইরানের সঙ্গে ১৫ দিনব্যাপী সংঘাতে ২০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে বাহিনীটি অভিযোগ করেছে, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা গোপন করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। যদিও এই দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেন, ‘অপারেশন ভিক্টরি–২’ চলাকালে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। তার দাবি, ওই অভিযানে ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। তবে এসব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ না করে ওয়াশিংটন প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মোহেবির ভাষ্য, যেসব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল, সেখানে যদি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র বিশ্বের সামনে উঠে আসবে। তার মতে, তথ্য গোপন রাখার কারণেই আন্তর্জাতিকভাবে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ‘অপারেশন ভিক্টরি–২’-এর সময় আটটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় একটি ঘাঁটির অন্তত ২০টি স্থাপনা ও বিমান হ্যাঙ্গার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি বাহিনীটি আরও দাবি করেছে, হামলায় ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার, ১৭টি গোয়েন্দা ও অপারেশনাল ড্রোন, একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ পরিবহন বিমান এবং আটটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ধ্বংস হয়েছে।
অন্যদিকে, এর আগে পেন্টাগনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই সংঘাতে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যম সংশোধিত তথ্য প্রকাশ করে নিহতের সংখ্যা ১৪ জন বলে উল্লেখ করে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র নিহত কয়েকজন সেনাসদস্যের পরিচয়ও প্রকাশ করেছে।
তবে আইআরজিসির সর্বশেষ দাবি নিয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। এদিকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের দাবি করা হতাহতের সংখ্যা কিংবা সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে সংঘাতে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়ে গেছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
এএন