দিনাজপুর প্রতিনিধি
জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাজনিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিচর্যাকারীদের (কেয়ারার) অধিকার, মর্যাদা এবং কল্যাণ নিশ্চিতকরণে কাজ করছে কেয়ারার্স অ্যান্ড কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রজেক্ট।
এর মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাজনিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং তাঁদের কেয়ারার উভয়েই মর্যাদা, সমতা ও প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন। কেয়ারারদের উপযুক্ত সম্মান, স্বীকৃতি এবং অধিকার নিশ্চিত করলে পরিবার ভালো থাকবে; আর পরিবার ভালো থাকলে সমাজ আরও মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে।
রোববার দুপুরে দিনাজপুরে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান কেয়ারার ওয়ার্ল্ড ওয়াইড-এর ফাউন্ডার ও নির্বাহী পরিচালক অনিল পালিত।
সভায় সেন্টার ফর ডিস্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি)-এর কেয়ারার্স অ্যান্ড কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রজেক্টের প্রজেক্ট সুপারভাইজার মইনুল ইসলাম, দিনাজপুরের প্রজেক্ট ফিল্ড ম্যানেজার মুকুল কিসকু এবং মনো-সামাজিক পরামর্শদাতা রুকুনুজ্জামান খান উপস্থিত ছিলেন।
অনিল পালিত বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাজনিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিচর্যাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, মানসিক, শারীরিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। কেয়ারাররা সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তাঁদের অবদান প্রায়শই সঠিকভাবে স্বীকৃত হয় না। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখে দিনাজপুরে তাঁদের জন্য সমন্বিত শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, কাউন্সেলিং, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এই প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে- কমিউনিটি পর্যায়ে হেলথ ক্যাম্পের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, হোম ভিজিট এবং কেয়ারার গ্রুপ মিটিংয়ের মাধ্যমে মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা কাটিয়ে উঠতে কাউন্সেলিং ও সাইকো-সোশ্যাল সাপোর্ট দেওয়া।
এছাড়া কেয়ারারদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ এবং সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় কেয়ারারদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় 'দিনাজপুর কেয়ারার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিসিএ)' গঠন করা হয়েছে। এটি কেয়ারারদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে কেয়ারার-বান্ধব নীতিমালা নিশ্চিত করতে অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। একজন কেয়ারার যখন নিজে সুস্থ থাকবেন, তখন মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সুস্থতা ও পুনর্বাসন আরও কার্যকর হবে।
দিনাজপুরে কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রকল্পটি গত ১ বছরে কেয়ারার এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন এমন ৫০২ জন পারিবারিক সদস্যকে সহায়তা করেছে। এর ফলে কেয়ারারদের কর্মক্ষমতার উন্নতি ও পরিচর্যার সময় হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে ৭৩ শতাংশ কেয়ারার প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা ও মানসিক চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এবং এর ওপর আস্থা রাখছেন।
জেএইচআর