আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ভবিষ্যতে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির অনুমোদন দিতে পারেন বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এমন মূল্যায়নের কথা জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। তবে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত হন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার নেতৃত্বে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিলেও তিনি পারমাণবিক বোমা তৈরির পক্ষে ছিলেন না বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন। অন্যদিকে মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পক্ষে বক্তব্য না দিলেও, মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা তিনি এবং ইরানের বর্তমান কট্টরপন্থী নেতৃত্ব ভবিষ্যতে ভিন্ন অবস্থান নিতে পারেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা যদি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করে থাকে, তাহলে সেটি সাম্প্রতিক সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিণতি হিসেবে বিবেচিত হবে। তাদের ভাষ্য, এই পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনাতেও তেহরান আগের তুলনায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে মার্কিন মূল্যায়নে বলা হয়েছে।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনিকে ঘিরে তাদের অধিকাংশ গোয়েন্দা তথ্য সংঘাত শুরুর আগেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। যুদ্ধ চলাকালে তিনি গুরুতর আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে এবং এরপর থেকে জনসমক্ষে তার উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে তার বর্তমান অবস্থান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, মোজতবা খামেনি বর্তমানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করলেও তিনি এখনো তার বাবা আলী খামেনির মতো পূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। টানা ৩৬ বছর ক্ষমতায় থাকা আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নেতৃত্বে যে পরিবর্তন এসেছে, সেই প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ আরও জোরদারের সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা দেয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বিদ্যমান পারমাণবিক অবকাঠামো রক্ষায় দেশটি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি। এর অংশ হিসেবে কিছু সেন্ট্রিফিউজ মধ্য ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এএন