Amar Sangbad
ঢাকা শনিবার, ২০ আগস্ট, ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯

কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন নিপীড়িত মানবতার কবি

আমার সংবাদ ডেস্ক

মে ২৫, ২০২২, ০৪:১১ পিএম


কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন নিপীড়িত মানবতার কবি

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন অনন্ত প্রেমের কবি! তাঁর ছিল অফুরন্ত ভালোবাসার জগৎ! তিনি প্রেম-বিরহের কাব্য, গান-উপন্যাস বহুধর্মী সৃষ্টিশীল রূপায়ণে বাংলা সাহিত্য শিল্পাঙ্গনে হৃদয়স্পর্শী গঙ্গার মতো প্রবাহমান স্রোতধারা- যা পাঠকমনকে প্রেমের আনন্দ উপভোগ করিয়ে বিরহ-বেদনার করুণসুরে অবলোকন করিয়েছেন অপূর্ব সৃষ্টির লীলায়। বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর রণতূর্য নিয়ে হাজির হয়েছিলেন নজরুল। তিনি যেন এই ধরায় এলেন হাজারো মানুষের মন জয় করে, বুকে ব্যাথা বেদনা দিয়ে চলে গিয়েছিলেন অচেনা এক পথে। প্রেম ও বিদ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩ তম জন্মবার্ষিকী আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ। একই সঙ্গে এ বছর পূর্ণ হলো তাঁর কালজয়ী কবিতা ‘বিদ্রোহী’ রচনার শতবর্ষ। বরাবরের মতোই সারা দেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হবে ‘নজরুলজয়ন্তী’।

রাজধানীতে সকাল থেকেই কবির অগণিত অনুরাগী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাঁর অন্তিম শয্যায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন নিপীড়িত মানবতার কবি। সারা জীবন তিনি সমাজের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে কলম ধরেছেন। তিনি নির্ভীক চিত্তে কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা ও কূপমণ্ডূকতার বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষুরধার রচনা অব্যাহত রেখেছেন। থেকেছেন আপসহীন। লোভ–খ্যাতির মোহের কাছে মাথা নত করেননি। কারা নির্যাতনেও বিচ্যুত হননি লালিত আদর্শ থেকে। অন্যদিকে তিনি মানুষের হৃদয়ের কোমল অনুভূতির প্রতিও সমান আবেগে সাড়া দিয়েছেন। অজস্র গানে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন বাংলার সংগীত ভুবন। প্রবর্তন করেছিলেন বাংলা গজল।

কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ছিল ঘটনাবহুল। বাংলা ১৩০৬ সনের ১১ জ্যৈষ্ঠ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোলের চুরুলিয়া গ্রামে তিনি জন্মেছিলেন। তাঁর ডাকনাম ‘দুখু মিয়া’। পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মা জাহেদা খাতুন। পিতা ছিলেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম। অভাব–অনটন ছিল শৈশব থেকেই তাঁর নিত্যসঙ্গী। শৈশব থেকেই লেটো দলের বাদক, রুটির দোকানের শ্রমিক এভাবেই পেরিয়ে গেছে তাঁর শৈশব–কৈশোর। পরে কাজ করেছেন সৈনিক হিসেবে। সাংবাদিকতা করেছেন। কাজ করছেন এইচএমভি ও কলকাতা বেতারে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে পথে নেমেছেন। পাশাপাশি সাহিত্যসাধনা তো ছিলই। শাসকের কোপানলে পড়েছেন, কারারুদ্ধ হয়েছেন কিন্তু নত হয়নি নজরুলের উচ্চ শির।

এক নজরে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী:
সম্রাট শাহ্ আলমের সময় তার পূর্বপুরুষেরা পাটনার হাজীপুর থেকে বর্ধমানের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে আসেন। মোগল আমলে প্রতিষ্ঠিত এখানে এক বিচারালয়ে তাঁরা কাজীর (বিচারকের) পদ পান। কাজী নজরুল ইসলাম হলেন এই কাজীদেরই বংশধর। পিতার নাম কাজী ফকির আহমদ। মাতার নাম জাহেদা খাতুন। কাজী ফকির আহমদের দুটি স্ত্রীর গর্ভে সাত পুত্র ও দুই কন্যা জন্মেছিল। কবির সহোদর তিন ভাই, এক বোন। কবি তার পিতার দ্বিতীয় পক্ষের দ্বিতীয় সন্তান। বড় সন্তান সাহেবজানের জন্মের পর চার পুত্রের অকাল মৃত্যু হয়, তারপর জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল। দুঃখের মধ্যে জন্ম বলেই সম্ভবতঃ নজরুলের ডাক নাম রাখা হয় দুখু  মিঞা। ছোট বেলায় কেউ কেউ তাকে তারা ক্ষ্যাপা বলে ডাকতো, কেউ আদর করে বলতো নজর আলী।

২৪ মে, ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দ (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) মঙ্গলবার নজরুল জন্মগ্রহণ করেন। পিতৃহীন হন ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে (৭ চৈত্র, ১৩১৪ বঙ্গাব্দ) মাত্র আট বছর বয়সে কবি তখন গ্রামের মক্তবের ছাত্র। এই মক্তব থেকেই তিনি নিম্ন প্রাথমিক পরীক্ষায় পাশ করেন ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ)। সংসারে অর্থাভাব এমন নিমর্মভাবে দেখা দিয়েছিল যে তাকে বাধ্য হয়ে এই খেলার বয়সে (দশ বছর) উক্ত মক্তবে শিক্ষকতা করতে হয়। এই সময় তিনি মাজার-শরীফের খিদমদগিরি, মসজিদের ইমামতি এবং গ্রাম মোল্লাগিরিও শুরু করেন। আরবি ও ফারসি ভাষার প্রথম পাঠ গ্রহণ করেছিলেন মক্তবের শিক্ষক মৌলবী কাজী ফজলে আহম্মদের নিকট।

১৯১০ বঙ্গাব্দে কিবি লেটো গানের দলে যোগদান করেন। নিজ প্রতিভা বলে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই তিনি দলের শ্রেষ্ঠতম ওস্তাদ পদ অধিকার করেন। এরপর তিনি দলত্যাগ করে মাথরুন হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন।

১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে শিয়ারসোল হাইস্কুলে ভর্তি হন। পরে তিনি ওই  স্কুল ত্যাগ করেন। এরপর তিনি মাথরুন নবীনচন্দ্র ইন্সটিটিউটে ভর্তি হন। ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি এই স্কুলে অধ্যয়ন করেন। এরপর তিনি বাসুদেবের শখের কবিগানের আসরে ঢোল বাজিয়ে গান গাওয়া শুরু করেন। এক শীতের রাতে এই শখের কবিগানের আসরে কবির গান শুনে মুগ্ধ হন এক বাঙালি ক্রিশ্চান গার্ড এবং তাকে বাবুর্চির কাজ দিয়ে নিয়ে আসেন প্রসাদপুরের বাংলোয়। কিন্তু নানান কারণে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এই গার্ডের দেওয়া চাকরি ছেড়ে কবি চলে আসেন আসানসোলে।
 
১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি এম বখশের চা-রুটির দোকানে একটা চাকরি পান। তখন তাঁর বেতন ছিল খাবারসহ মাসে এক টাকা। রাতে ঘুমাতেন পাশের একটি তিন তলা বাড়ির সিঁড়ির নিচে। কাজী রফিজ-উল্লাহ নামক এক পুলিশ ইন্সপেক্টর থাকতেন ঐ বাড়িতে। তাঁর সাথে নজরুলের পরিচয় ঘটে এবং পরে তিনি মাসিক পাঁচ টাকায় কবিকে গৃহভৃত্যের কাজে নিযুক্ত করেন। এখানে কবি ছিলেন তিন মাস। কাজী রফিজ-উল্লাহ এবং তার স্ত্রী শামসুন্নেসা কবিকে ভীষণ স্নেহ করতেন।   তাদের প্রচেষ্টায় ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে কবি ময়মনসিংহ জেলার দরিরামপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দের (মতান্তরে ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দ) ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে সে স্থান ত্যাগ করেন।

১৯১৫ থেকে ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে এই তিন বছর, অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত তিনি শিয়ারসোল রাজ হাইস্কুলে অধ্যয়ন করেন। এই সময় তিনি সাত টাকা মাসিক বৃত্তি পেতেন। স্কুলের ফারসি শিক্ষক হাফিজনুরুন্নবীর কাছে তিনি ফারসি ভাষা আয়ত্ত করেন। এই স্কুলের সহকারী শিক্ষক সতীশচন্দ্র কাঞ্জিলালের কাছে ভারতীয় রাগ সঙ্গীতের পাঠ নেন। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সময় অর্থাৎ ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে, কবির প্রিটেস্ট পরীক্ষার সময়, পরীক্ষা ফেলে সেনাদলে নাম লিখিয়ে লাহোর হয়ে পেশোয়ারের কাছে নৌশেরাতে চলে যান। এখানে তিন মাসের ট্রেনিং-এর পর তাঁকে যেতে হয় ৪৯ নং বাঙালি পল্টনের হেড কোয়ার্টার করাচিতে। আপন কর্মদক্ষতার বলে অতি অল্পকালের মধ্যে তিনি ব্যাটালিয়ান কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার পদে উন্নীত হন।

১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে, মাসিক সওগাত পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ ১৩২৬ সংখ্যায় তাঁর ‘বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী’ প্রকাশিত হয়। এই বছরেই বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার শ্রাবণ ১৩২৬ সংখ্যায় তাঁর ‘মুক্তি’ নামক কবিতা প্রকাশিত হয়।

১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে নজরুল করাচি থেকে সাত দিনের ছুটি নিয়ে কলকাতায় এসে উঠলেন শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের বাসায়। তারপর বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ৩২ নং কলেজ স্ট্রিটে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির অফিসে এসে মুজফ্‌ফর আহমদের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় নজরুল তিনদিন কলকাতায় ছিলেন। ছুটির অবশিষ্ট দিনগুলি চুরুলিয়াতে কাটিয়ে আবার করাচি ফিরে যান।

১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের মার্চে ৪৯ নং বাঙালি পল্টন সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হলো। পূর্বের কথামত তিনি করাচি থেকে সোজা চলে আসেন শৈলজানন্দের রামাকান্ত বোস স্ট্রিটের পলিটেকনিক বোর্ডিং-এ। বোর্ডিংয়ের এক কর্মচারী নজরুলের এঁটো বাসন ধুতে অস্বীকার করায় এবং নজরুলের অবস্থানে মেসের অন্যান্য বাসিন্দার মধ্যে গুঞ্জন শুরু হওয়ায় তিনি নীরবে সে স্থান ত্যাগ করে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির অফিসে এসে ওঠেন।  

১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে কবি মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হতে শুরু করে মাসিক পত্রিকা ‘মোসলেম ভারত’। প্রথম সংখ্যা থেকেই নজরুল পত্রিকাটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন। এ সংখ্যায় প্রকাশিত হয় বাঁধনহারা পত্রোপন্যাসের প্রথম কিস্তি, জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় প্রকাশিত হয় উপন্যাসের দ্বিতীয় কিস্তি, হফিজ অবলম্বনে বোধন এবং শাত্ ইল-আরব কবিতা দুটি প্রকাশিত হয়। এরপর তিনি সান্ধ্য-দৈনিক নবযুগে (প্রথম প্রকাশ ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ জুলাই) যোগ দিয়েছিলেন। পত্রিকাটির স্বত্ত্বাধিকারী ছিলেন এ কে ফজলুল হক এবং যুগ্ম সম্পাদক হন কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজফ্‌ফর আহমদ। ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে নজরুল কিছুদিনের জন্য যান দেওঘরে। এখানে কবি সাহিত্য সমিতির অফিসে আফজাল উল হকের সংগে থাকতেন এবং এখানেই ত্রিপুরা জেলার কুমিল্লা মহকুমার অন্তর্গত দৌলতপুর গ্রামের আলী আকবর খান নামে এক ভদ্রলোকের সঙ্গে তার আলাপ হয়। খানের অনুরোধে কবি ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল (চৈত্র ১৩২৭ বঙ্গাব্দ) মাসে একদিন দৌলতপুরে এসে হাজির হন। দৌলতপুরে খানের এক ভাগ্নি নার্গিস আরা খানমের সাথে তার প্রথম বিবাহ সম্পন্ন হয় ১৯২১ খ্রষ্টাব্দের ১৭ জুন (৩ আষাঢ়, ১৩২৮ বঙ্গাব্দ)  তারিখে। বিয়ের দিন রাতেই কবি দৌলতপুর ত্যাগ করে কুমিল্লার কান্দিরপাড়ের সেনগুপ্ত পরিবারে ঠাঁই পান। এখানে তিনি অবস্থান করেন  ১৮ জুন ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দ-৮ জুলাই (১৩২৮ বঙ্গাব্দের ৪ আষাঢ়  হতে ২৫ আষাঢ়) পর্যন্ত।

১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের ১০ জুলাই তারিখে নজরুলকে মুজফ্‌ফর আহমদ কুমিল্লা থেকে কলকাতায় ফিরিয়ে আনেন। এখানে ফিরে তিনি ৩/৪ সি তালতলা লেনের বাড়িতে মুজফ্‌ফর আহমদের সাথে বসবাস শুরু করেন। এই বাড়িতে অবস্থানকালীন সময়ে নজরুল রচনা করেন তার চিরস্মরণীয় কবিতা বিদ্রোহী। কবিতাটি প্রথমে মুদ্রিত হয় ১৩২৮ বঙ্গাব্দের কার্তিক সংখ্যা মোসলেম ভারতে, কিন্তু প্রথম জনসমক্ষে প্রকাশিত হয় ৬ জানুয়ারি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দের ২২ পৌষ) তারিখের সাপ্তাহিক বিজলীতে।

অক্টোবর মাসে মুহম্মদ শহীদুল্লার সাথে তিনি শান্তিনিকেতন যান এবং রবীন্দ্রনাথের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। নভেম্বরে কবি পুনরায় কুমিল্লায় আসেন। এ সময় প্রিন্স অব ওয়েল্সের (পরে অষ্টম এডয়ার্ড) ভারতে আগমন উপলক্ষে (১৭ নভেম্বর এডওয়ার্ড বোম্বাইতে এসে পৌঁছান) সারা দেশে হরতাল ও হাঙ্গামা চলে। এই সময় কবি কুমিল্লায় ছিলেন। ২১ নভেম্বরে এই হরতাল উপলক্ষে রচিত জাগরণী গানটি গেয়ে কবি মিছিলের পুরাভাগে থেকে সারা শহর পরিক্রমা করেন।

১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকার ৬ই জানুয়ারি সংখ্যায় বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশিত হয়।   প্রথম দিকে নজরুল আবার কুমিল্লায় গিয়ে বেশ কিছুদিন অবস্থান করেন। এ সময় কুমারী প্রমীলা সেনগুপ্তের সাথে তার গভীর প্রণয় হয়। হাফিজ মস্উদ আহমেদ নামে এক ব্যক্তির সহায়তায় নজরুল একটি অর্ধ সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশে মেতে ওঠেন এবং ফলশ্রুতি হিসাবে ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ১২ আগষ্ট (১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২৫ শ্রাবণ) তারিখে ধুমকেতু আত্মপ্রকাশ করে। উল্লেখ্য ধূমকেতুতে নজরুল যে সকল জ্বালাময়ী প্রবন্ধ প্রকাশ করেন সেগুলি সংকলিত করে রুদ্রমঙ্গল, দুর্দিনের যাত্রী এবং ধূমকেতু শীর্ষক তিনটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ২২ সেপ্টেম্বর ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় প্রকাশিত নজরুলের কবিতা আনন্দময়ীর আগমনে প্রকাশের জন্য ধূমকেতুর উক্ত সংখ্যাটি বাজেয়াপ্ত করে নজরুলের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। প্রথম দিকে কিছুদিন কবি আত্মগোপন করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ২৩ নভেম্বর তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। রাজদ্রোহের অপরাধে ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ জানুয়ারি বিচারে কবির এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড হয়। নজরুলকে প্রথমে কিছুদিন আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে রাখার পর হুগলি জেলে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। এই মামলায় স্বপক্ষ সমর্থন করে আদালতে নজরুল যে জবানবন্দি পেশ করেন বাংলা সাহিত্যে তা এক বিশেষ মর্যাদার আসন অধিকার করে আছে। এই লেখাটি তিনি লিখেছিলেন ৭ই জানুয়ারি। ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ শিরোনামে লেখাটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ১৩ মাঘ তারিখে ধূমকেতুতে প্রকাশিত হয়। ১৬ই জানুয়ারি তাঁর ১ বছরের জেল হয়। হুগলি জেলে রাজনৈতিক বন্দীদের প্রতি অমানুষিক ব্যবহারের প্রতিবাদে নজরুল ৩৯ দিন অনশন ধর্মঘট করেন। বিদ্রোহী রচনা করে কবি যে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন- অনশন ধর্মঘটে তার প্রচার ততোধিক বেড়ে গিয়েছিল। এ সময় রবীন্দ্রনাথ তার বসন্ত নাটকটি নজরুলের নামে উৎসর্গ করেছিলেন। নজরুল কারামুক্ত হন ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ ডিসেম্বরে।

১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ এপ্রিল (১৩৩১ বঙ্গাব্দের ১২ই বৈশাখ ) শুক্রবার, প্রমীলা সেনগুপ্তের সাথে তিনি পরিণয়-সুত্রে আবদ্ধ হন। মিসেস এম রহমান সাহেবের উদ্যোগে ৬ নং হাজী লেনে এই বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর নজরুল হুগলিতে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। এ সময় তাকে দারুণ অর্থকষ্টের মধ্যে থাকতে হয়। এই বছরের শেষের দিকে নজরুলের প্রথম সন্তান আজাদ কামালের জন্ম হয় এবং অল্প কয়েকদিনের মধ্যে এই সন্তান মৃত্যবরণ করে।

১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ নভেম্বর,  The Labour Swaraj Party of the Indian National Congress গঠিত হয়। ১৬ ডিসেম্বর এই দলের মুখপত্র লাঙল এর ১ম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শ্রীমণিভূষণ মুখোপাধ্যায় এবং প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।

১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩ জানুয়ারিতে হুগলি ছেড়ে কৃষ্ণনগরে বসবাস শুরু করেন। সে বছর লেবার স্বরাজ পাটির বার্ষিক সম্মেলন কৃষ্ণনগরে অনুষ্ঠিত হয়-শ্রমিকের গান গেয়ে নজরুল তার উদ্বোধন করেন।

এপ্রিলে শুরু হয় বাংলার ইতিহাসের নৃশংসতম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। আর্য সমাজবাদীদের রাজরাজেস্বরী মিছিলকে উপলক্ষ্য করে ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দের ২ এপ্রিল (১৯ চৈত্র, ১৩৩২ বঙ্গাব্দ) শুক্রবারে এর সূত্রপাত। সেই বিষাক্ত আবহাওয়ার মধ্যে রচনা করেন কান্ডারী হুঁশিয়ার। পরে এটি প্রাদেশিক রাষ্ট্রীয় সম্মেলনের উদ্বোধন সংগীত হিসাবে গাওয়া হয়।
 
১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে নজরুল একবার ঢাকায় যান। মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রথম বর্ষের চতুর্থ অধিবেশনে (২৭ জুন, রবিবার) কবি কয়েকটি গান গেয়ে তরুণ মানসে দারুণ উদ্দীপনার সৃষ্টি করেন। আর্থিক দিক থেকে প্রায় নিঃস্ব কবির কি খেয়াল হয়- এ সময় তিনি কেন্দ্রীয় আইন সভার পদপ্রাথী হয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং বলা বাহুল্য তিনি পরাজিত হন।

জুলাইতে তিনি যান চট্টগ্রামে। লাঙল মাত্র পনেরটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল। শেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ এপ্রিলে। পত্রিকাটি পরে (১২ আগষ্ট ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দ, ২৭শে শ্রাবণ ১৩৩৩ বঙ্গাব্দ) গণবাণী রূপ পরিগ্রহ করে।   ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৯ সেপ্টেম্বরে নজরুলের দ্বিতীয় পুত্র বুলবুল ভূমিষ্ঠ হয়। পুত্রের নামানুযায়ী তিনি তার সঙ্গীত গ্রন্থের নাম রাখেন বুলবুল। এ সময় (১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দ) থেকেই নজরুল গজল গান রচনায় মেতে উঠেন।
 
১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ ফেব্রুয়ারি (১৩৩৩ বঙ্গাব্দের মাঘ মাস) ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে নজরুল কৃষ্ণনগর থেকে ঢাকায় আসেন।

১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসের প্রথম দিকে,  সাহিত্য সমাজের দ্বিতীয় বার্ষিক অনুষ্ঠানে তিনি  আবার ঢাকায় আসেন এবং এ উপলক্ষে তিনি রচনা করেন  বিখ্যাত ‘চল্ চল্ চল্ উর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল’ গানটি।

১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম দিকে তিনি কলকাতায় চলে এসে প্রথমে ওঠেন বন্ধু নলিনীকান্ত সরকারের বাড়িতে। পরে ১১নং ওয়েলস স্ট্রিটের সওগাত অফিসের দুটি ছোট ঘরে আশ্রয় পান। এক পত্রিকা অফিস, তার উপর দুটি অপ্রশস্ত ঘর, এর উপর প্রমীলা নজরুল তখন সন্তানসম্ভবা ছিলেন- ফলে নানান অসুবিধা দেখা দেয়। এই সময় তিনি উঠলেন ৮/১ পানবাগান লেনের বাড়ির দোতলায়। এখানে থেকে উত্তর কলকাতায় কয়েক জায়গায় বাসা বদল করে শেষে তিনি মসজিদ বাড়ি স্ট্রিটের একটি ছোট তিন তলা বাড়িতে উঠে আসেন। ৯ অক্টোবর তাঁর তৃতীয় পুত্র সব্যসাচীর জন্ম হয়। ১৫ ডিসেম্বর  (১৩৩৬ সালের ২৯ অগ্রহায়ণ) বিকাল দুটোর সময় অ্যালবার্ট হলে নজরুলকে এক বিপুল সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করার আয়োজন করা হয়।

১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে (১৩৩৭ বঙ্গাব্দ) ব্রজবিহারী বর্মণ কাজী নজরুল ইসলামের প্রলয়শিখা কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ করেন। গ্রন্থটিতে রাজদ্রোহমূলক বেশ কিছু কবিতা থাকায় এঁকে পুনরায় মামলায় জড়ানো হয় এবং বিচারে ছয় মাসের জেল হয়। কিন্তু ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৪ মার্চে গান্ধী আরউইন চুক্তির ফলে তিনি জেল থেকে মুক্তি পান। নজরুলের মা ১৩৩৫ বঙ্গাব্দের (১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দের) ১৫ই জ্যৈষ্ঠ পরলোকগমন করেছিলেন, প্রথম পুত্র আজাদ কামালেরও অকাল মৃত্যু হয়েছিল হুগলিতে, ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দের ৭ বা ৮ মে মসজিদ বাড়ি স্ট্রিটে বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তার দ্বিতীয় পুত্র বুলবুল। মোটর গাড়ির প্রতি বুলবুলের প্রবল আকর্ষণ ছিল সে কথা স্মরণ করে কবি অগ্নিবীণার স্বত্ব বিক্রি করে একটি মোটর কেনেন।

১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের (১৩৩৭-৩৮ বঙ্গাব্দ) দিকে কবি সিনেমা ও রঙ্গমঞ্চের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন। তিনি ম্যাডান থিয়েটার্স লিমিটেড-এর সুরভাণ্ডারী নিযুক্ত হন। জুন মাসে তিন দার্জিলিং যান এবং সেখানে তাঁর সাথে রবীন্দ্রনাথের দেখা হয়। ২৪শে ডিসেম্বর কনিষ্ঠ পুত্র অনিরুদ্ধের জন্ম হয়।

১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মেগাফোন কোম্পানিতে যোগদান করেন।
১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ‘ধ্রুব’ নামক চলচ্চিত্রে নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেন। এই ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে। এই চলচ্চিত্রের সঙ্গীত রচনা ও পরিচালনা ছাড়াও কবি নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেন।

১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে ফরিদপুর জেলা মুসলিম ছাত্র সম্মেলনে নজরুলের সভাপতিত্ব করেন।  
১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা বেতারে হারমণি, নবরাগ, মালিকা অনুষ্ঠানসমূহ পরিচালনা করেন। এই বছরে তাঁর স্ত্রী প্রমিলাদেবী পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন। তার রচিত বিদ্যাপতি (২ এপ্রিল ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দ)।

১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৭মে  সাপুড়ে চলচ্চিত্রে কাহিনী ও গান রচনা করেন। মন্মথ রায়ের মহুয়া, কারাগার এবং প্রবোধকুমার সান্যালের শ্যামলীর স্বপ্ন-এর জন্য নজরুল সঙ্গীত রচনা করেন। এ ছাড়া যে সকল ছায়াচিত্রে নজরুল সঙ্গীত ব্যবহৃত হয়েছে তাদের মধ্যে চৌরঙ্গী, চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন।

১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবরে দৈনিক নবযুগ প্রকাশিত হয়। এবারও প্রধান সম্পাদক হলেন কাজী নজরুল ইসলাম। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ ডিসেম্বর (৮ পৌষ ১৩৪৭ বঙ্গাব্দ) সোমবার কলকাতা মুসলিম ছাত্র সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানের সভাপতি হন।

১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই জুলাই থেকে তিনি দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। ১৯শে জুলাই তিনি মধুপুরে যান। ৭ অক্টোবর কলকাতার লুম্বিনী পার্ক মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রোগ নিরাময়ের জন্য নজরুল নিরাময় সমিতি গঠন করা হয়। এই সমিতির সভাপতি ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ।

১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ‘জগত্তারিণী’ স্বর্ণপদক প্রদান করে।

১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে নজরুল নিরাময় সমিতি, তাঁকে রাচি মানসিক হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চার মাস চিকিৎসার পর, অপরিবর্তিত অবস্থায় কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হয়।
 

১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে ১০ মে নজরুল নিরাময় সমিতি চিকিৎসার জন্য কবিকে প্রথমে লণ্ডনে পাঠায়। কলকাতা থেকে রওনা হয়ে ৮ জুন তিনি লন্ডনে পৌঁছান। এখানে স্যারগ্যান্ট, টি এ বেটন, ম্যাককিসক এবং রাসেল কবিকে পরীক্ষা করেন। কিন্তু রোগ নির্ণয়ের ব্যাপারে তারা একমত হতে পারেন নি। ফলে ৭ ডিসেম্বর কবিকে লন্ডন থেকে ভিয়েনায় পাঠান হয়। ভিয়েনার বিশ্ববিখ্যাত স্নায়ু বিশেষজ্ঞ ডঃ হ্যান্স হফ্ কবিকে পরীক্ষা করেন এবং বলেন নজরুল পিকস ডিজিস নামক  ব্যাধিতে ভুগছেন। রোগ বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে নিরাময় হবার কোন সম্ভাবনা নেই। অবশেষে তিনি এক ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন। সেই ব্যবস্থাপত্রসহ ১৫ ডিসেম্বর কবিকে কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হয়।

১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দৈ ভারত সরকার পদ্মভূষণ উপাধি দেন।
১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ৩০শে জুন কবি পত্নী প্রমীলা নজরুল সুদীর্ঘ রোগ ভোগের পর ইহলোক ত্যাগ করেন।

১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডি লিট উপাধি প্রদান করেন।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে শেখ মুজিবর রহমানের আমন্ত্রণের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ভারত সরকার লোকপ্রিয় কবি নজরুলকে বাংলাদেশে নিয়ে যাবার অনুমতি দেন। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে তারিখে কবিকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরদিন ২৫ মে সারা বাংলাদেশ ব্যাপী বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে কবির ৭৩তম জন্মদিন পালন করা হয়। বাংলাদেশের জনগণ কবিকে রাজকীয় সম্মান প্রদর্শন করেন। কবির জন্য সম্পূর্ণ একটি দোতালা বাড়ি, একটি গাড়ি, ডাক্তার, নার্স এবং অন্যান্য সকল রকম সেবার ব্যাপক বন্দোবস্ত করা হয়।

১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে কবির প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধায় কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসুচক ডি লিট উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
২১শে ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাহিত্যিক পুরস্কার ২১শে পদক প্রদান করা হয়।

১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ২২শে জুলাই কবির স্বাস্থ্যের অবনতি লক্ষ্য করে তাকে ঢাকায় পি জি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এরপর ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ আগস্ট কবির স্বাস্থ্যের আরও অবনতি ঘটে। ডাক্তারি রিপোর্টে প্রকাশ পায় তিনি ব্রঙ্কো-নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, দেহের তাপমাত্রা ওঠে ১০৩ ডিগ্রি। পরদিন সকালে এই তাপমাত্রা বেড়ে হয় ১০৫ ডিগ্রি এবং প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। ২৯ আগষ্ট বাংলাদেশের সময় সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ২৯ আগষ্ট বিকেল সাড়ে পাঁচটায় কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মসজিদের পাশে পরিপূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

আমারসংবাদ/আরএইচ

Dairy-Farm
Prani Sompod

শিল্প-সাহিত্য থেকে আরও