ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

বহিষ্কৃত গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি না, জানাল ইসি

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম

বহিষ্কৃত গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি না, জানাল ইসি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আলোচিত ঘটনার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলীয়ভাবে বহিষ্কার করেছে। তবে দলীয় এ সিদ্ধান্তের ফলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না। আইন অনুযায়ী এ ধরনের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার জাতীয় সংসদের স্পিকারের।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, কোনো সংসদ সদস্য দল থেকে বহিষ্কৃত হলেই তাঁর আসন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয় না। বিষয়টি সংবিধান ও আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হয়।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী যদি বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বা এ-সংক্রান্ত কোনো চিঠি নির্বাচন কমিশনে পাঠায়, তাতেও কমিশন সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যের যোগ্যতা বা অযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে জাতীয় সংসদের স্পিকার অনুচ্ছেদ ৬৬(৩) অনুসারে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠালে তবেই কমিশন কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।

নির্বাচন কমিশনার জানান, স্পিকারের আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স পাওয়ার পর কমিশন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শুনবে, সংবিধান ও প্রযোজ্য আইন পর্যালোচনা করবে এবং এরপর আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেবে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সোমবার রাতে। ওই সময় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

প্রথমদিকে জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একটি অংশ দাবি করেন, ভিডিওগুলো Artificial Intelligence (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে। তবে পরদিন গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ভেরিফাইড Facebook পেজে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, ভিডিওতে থাকা নারী তাঁর বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। তাঁর দাবি, গত ১৭ জুন প্রথম স্ত্রী ও পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিষয়টি তদন্তে খুলনা অঞ্চলের পরিচালক এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত চলাকালে কমিটি গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া নারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করে। তদন্তে উল্লেখ করা হয়, ওই নারী এমপির দূরসম্পর্কের আত্মীয় এবং তিনি ঢাকায় অবস্থানকালে তাঁর বাসায় যাতায়াত করতেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার আগে তাঁদের একাধিকবার সাক্ষাৎ হয়েছিল, যা দলীয় নীতিমালা ও ধর্মীয় পর্দা বিধানের পরিপন্থী। কমিটির মতে, এ ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ সাংগঠনিক শাস্তি যথেষ্ট হবে না।

পরে বুধবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে গাজী নজরুল ইসলামকে দলের সব ধরনের সদস্যপদ ও দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্ত জাতীয় সংসদ এবং নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

এদিকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে দলত্যাগ বা দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংসদে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সদস্যপদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে কোনো রাজনৈতিক দল নিজ উদ্যোগে একজন সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করলে তাঁর আসন শূন্য হবে কি না, তা আইনগত ব্যাখ্যার বিষয় এবং এ ক্ষেত্রে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

ফলে এখন বিষয়টির পরবর্তী ধাপ নির্ভর করছে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপর। স্পিকার যদি মনে করেন যে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে, তাহলে তিনি বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাতে পারেন। এরপর কমিশন উভয় পক্ষকে শুনানির সুযোগ দিয়ে আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

সেই সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল থাকবেন কি না, অথবা আসনটি শূন্য ঘোষণা করে উপনির্বাচনের পথে যাওয়া হবে কি না, তা এখন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে।

এম জি

Link copied!