নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও পরিবর্তনের দোলাচল শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন মেয়াদে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকারী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব ছাড়া না-ছাড়াকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ।
দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন এবং বিভিন্ন মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছিল যে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি বিগত সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট ও একটি বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠীর বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে বঙ্গভবনে স্থান পেয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি বঙ্গভবনে থাকবেন কি না, তা নিয়ে শুরু থেকেই একটি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ জারি ছিল। সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, দেশের নতুন ক্ষমতার বিন্যাসে বর্তমান রাষ্ট্রপতির বিদায় এখন কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, নতুন সরকার কিংবা রাজনৈতিক শক্তিগুলো শুরুতেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের বিষয়ে তড়িঘড়ি কোনো পদক্ষেপে যেতে চায়নি। বরং তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে পদত্যাগ করেন কি না, বা বিষয়টিকে একটি স্বাভাবিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সমাধান করা যায় কি না- তার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যবেক্ষণ করেছে ক্ষমতাসীন দল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁদের চূড়ান্ত মনোভাব ও স্পষ্ট অবস্থান পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এরপরই পুরো বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা লাভ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতি শেষ পর্যন্ত নিজ থেকে পদত্যাগ করলে কিংবা নিয়ম অনুযায়ী সরে দাঁড়ালে গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরণের নতুন মোড় আসবে। জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগের এমন একটি সময়ে বঙ্গভবনে পরিবর্তন কেবল একজন ব্যক্তির বদল নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক কৌশল ও সমীকরণ। বিশেষ করে বিগত গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে শুরু করে দেশের শাসনব্যবস্থায় যেসব পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছিল, এটি হবে তার একটি অন্যতম প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
রাষ্ট্রপতির অপসারণ বা পদত্যাগের পরপরই নতুন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কাকে বেছে নেওয়া হবে, তা নিয়ে রাজনীতিতে এখন ব্যাপক গুঞ্জন। কারণ বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করায় তারা সরকারের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী কাউকেই দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক পদে বসানোর একচ্ছত্র সুযোগ ও ক্ষমতা পেতে যাচ্ছে। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় পর দেশের রাজনীতিতে বিএনপির কোনো পছন্দের বা অনুগত ব্যক্তিত্ব এই মর্যাদা লাভ করতে যাচ্ছেন।
বঙ্গভবনের এই সম্ভাব্য রদবদল কেবল বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক সুবিধাই নিশ্চিত করবে না, বরং পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের ওপরও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন যে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শুরু হতে যাচ্ছে, তাঁর অধীনেই দেশের আগামী রূপরেখা নির্ধারিত হবে এবং পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন পরিচালনায় ও রাষ্ট্র পরিচালনায় রাষ্ট্রপতির নিরপেক্ষ ভূমিকা অথবা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের আইনি দিকগুলো কতটা কার্যকর রাখা যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে নতুন রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও সিদ্ধান্তের ওপর।
বঙ্গভবনের পরবর্তী অভিভাবক কে হচ্ছেন- তা নিয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক সমাজেও বিপুল আগ্রহ ও ঔৎসুক্য তৈরি হয়েছে। দেশের শীর্ষ পদে নতুন কারা আসতে পারেন এবং সরকারের উচ্চপর্যায় কাকে রাষ্ট্রপতির মতো সংবেদনশীল ও সম্মানিত দায়িত্ব সঁপে দিতে প্রস্তুত হচ্ছে, তা নিয়ে নানা মহলে শুরু হয়েছে নাম নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা ও অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ। আগামী কয়েক দিনেই পুরো পরিস্থিতির স্পষ্ট রূপ প্রকাশ পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এএন