ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ঘোষণা হলো, লড়াই বাকি: বিএনপির ২৩৭ আসনের রাজনৈতিক পাঠ

ওমর ফারুক

ওমর ফারুক

নভেম্বর ৪, ২০২৫, ০১:২০ পিএম

ঘোষণা হলো, লড়াই বাকি: বিএনপির ২৩৭ আসনের রাজনৈতিক পাঠ

ঘোষণায় আত্মবিশ্বাস, মাঠে অনিশ্চয়তা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বিএনপি ২৩৭ আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই তালিকা ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম দুটি দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, যিনি তিনটি আসন (ফেনী–১, বগুড়া–৭, দিনাজপুর–৩) থেকে নির্বাচন করবেন, এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বগুড়া–৬ আসনে।

এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিএনপি স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় তারা আর নির্বাচন এড়িয়ে যাচ্ছে না; বরং ব্যালটে ফিরে আসছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এই প্রত্যাবর্তন কতটা বাস্তব রাজনৈতিক প্রস্তুতির প্রতিফলন, আর কতটা প্রতীকী প্রদর্শন?

সংগঠনের কৌশল: আত্মবিশ্বাসের তালিকা, কিন্তু অনিশ্চিত বাস্তবতা: ২৩৭ আসনের তালিকা যতটা রাজনৈতিকভাবে দৃঢ় শোনায়, বাস্তবে সেটি এখনও “পরিবর্তনযোগ্য” এমনটাই জানিয়েছেন দলের মহাসচিব।

এই অবস্থান থেকেই বোঝা যায়, বিএনপি এখনো পর্যবেক্ষণ ও আলোচনার পর্যায়ে আছে। জোটসঙ্গীদের জন্য ৩০–৪০টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে, তবে কোন আসনে কার ছাড় দেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রার্থী তালিকার তাৎপর্য হলো “রাজনৈতিক পুনরুত্থানের ঘোষণা।” কিন্তু বাস্তবতায় এটি একটি কঠিন পরীক্ষা। কারণ মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক দুর্বলতা, স্থানীয় নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, এবং প্রচারণার প্রস্তুতি এখনও সম্পূর্ণ নয়।

আঞ্চলিক বিশ্লেষণ: তিন আসনে তিন রকম বাস্তবতা: দিনাজপুর–৩: উত্তরবঙ্গের প্রতীকী প্রত্যাবর্তন: উত্তরাঞ্চলের ঐতিহাসিকভাবে বিএনপিপ্রবণ এলাকা দিনাজপুর–৩ আসন দীর্ঘদিন ধরে ভৌগোলিক ও উন্নয়ন-নির্ভর ভোটে বিভক্ত।

এই আসনে বেগম খালেদা জিয়ার নাম প্রতীকী অর্থে গুরুত্বপূর্ণ। এটি উত্তরাঞ্চলে বিএনপির পুনরুত্থানের সংকেত বহন করে। তবে মাঠপর্যায়ে দলীয় বিভক্তি, প্রার্থীপ্রস্তুতি ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের অবস্থান এখনো অনিশ্চিত। তাই এই আসনটি “প্রত্যাবর্তনের বার্তা” হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তব জয়ের সমীকরণ এখনো দুরূহ।

বগুড়া–৭: ঐতিহ্যের আসনে নতুন পরীক্ষা: বগুড়া বিএনপির জন্মভূমি ও রাজনৈতিক দুর্গ, এখানেই জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার সবচেয়ে দৃঢ়। বগুড়া–৭ থেকে খালেদা জিয়ার প্রার্থীতা তাই শুধু ব্যক্তিগত নয়, প্রতীকীও।

অন্যদিকে বগুড়া–৬ আসনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ, একটি দ্বৈত বার্তা দেয়:
দলীয় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা ও নেতৃত্বে প্রজন্মান্তরের প্রতীক। তবে বাস্তবতা কঠিন। গত দুই নির্বাচনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ভোট বিভাজন এই অঞ্চলে তাদের ভোটশক্তি কমিয়ে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন, পরিবার–নেতৃত্বের আবেগ কি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ঐক্যে রূপ নিতে পারবে? 

ফেনী–১: আবেগের আসন, বাস্তবের নয়: ফেনী–১ আসনটি দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এলাকা। এখানে খালেদা জিয়ার নিজ জেলা–পরিচয় আবেগের কারণ হলেও স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান অস্বীকার করা যায় না। বিএনপির সাংগঠনিক উপস্থিতি এখানে তুলনামূলক দুর্বল, তবে “চেয়ারপারসনের প্রার্থীতা” কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ফেনী–১ মূলত একটি মানসিক ও প্রতীকী ফ্রন্ট যেখানে জয় নয়, উপস্থিতিই মূল উদ্দেশ্য।

জাতীয় পার্টি ও ছোট জোটগুলোও সীমিত পরিসরে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপি সংখ্যা (২৩৭) দিয়ে দেখাতে চায় তারা নির্বাচনের মূলধারায় ফিরছে, শুধু প্রতিবাদ নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করছে।

তবে নির্বাচন মানেই শুধু নাম ঘোষণা নয়, এটা মাঠের লড়াই, সংগঠনের সমন্বয় ও ভোটারের আস্থা অর্জনের প্রক্রিয়া। এখানেই বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ।

ভোটার মনোবল ও রাজনৈতিক বাস্তবতা: বর্তমান জরিপে দেখা যাচ্ছে, দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটার এখনও “ভোট দেবেন কি না” তা নিশ্চিত নন। গ্রামীণ ভোটাররা এখন উন্নয়ন ও সেবামুখী ইস্যুতে ভোট দিচ্ছেন, আর তরুণ ভোটারদের কাছে কর্মসংস্থান ও নেতৃত্বের সততা বড় বিষয়। বিএনপি যদি এই নতুন ভোটার গোষ্ঠীর কাছে প্রাসঙ্গিক বার্তা পৌঁছে দিতে না পারে, তবে প্রার্থী তালিকা কেবল কাগজেই শক্তিশালী থাকবে।

প্রতীক আছে, প্রস্তুতি বাকি: ২৩৭ আসনের প্রার্থী তালিকা বিএনপির রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু এই ঘোষণা কতটা বাস্তব ভোটে রূপ নেবে, তা নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর- মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক ঐক্য, প্রার্থী ও ভোটার সংযোগ, নির্বাচনী পরিবেশের সুষ্ঠুতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা।

এখনও সময় আছে- ঘোষণার আত্মবিশ্বাসকে মাঠের বাস্তবতায় রূপ দিতে পারলে বিএনপি সত্যিই ফিরে আসতে পারে। না হলে, এই ঘোষণা ইতিহাসে থেকে যাবে শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবেই।

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী।

জেএইচআর

Link copied!