আমার সংবাদ ধর্ম ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
সৌদি আরবের পবিত্র ভূমি মক্কা ও মদিনায় মহান আল্লাহর মেহমানদের স্বাগত জানাতে প্রতি বছরের মতো এবারও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সৌদি সরকার। ২০২৬ সালের বা ১৪৪৭ হিজরি সালের পবিত্র হজ পালনকারীদের জন্য ভিসা ইস্যু করার আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করেছে দেশটির হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারি বা ২০ শা’বান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হজের ভিসা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে হজের ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, দ্রুত এবং হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে এ বছর অনেক আগেভাগেই প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সৌদি গেজেটসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো মন্ত্রণালয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা প্রচার করে। সাধারণত হজের কয়েক মাস আগে থেকে এই কার্যক্রম শুরু হলেও এবার শা’বান মাসের মাঝামাঝি সময়েই ভিসা ইস্যু শুরু করার পেছনে রয়েছে সৌদি সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। এর লক্ষ্য হলো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হজযাত্রীদের শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো থেকে মুক্তি দেওয়া এবং লজিস্টিক সাপোর্ট বা রসদ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগাম ভিসা প্রদানের ফলে বিভিন্ন দেশের হজ এজেন্সিগুলো তাদের আবাসন বা হোটেল, পরিবহন এবং অন্যান্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবে।
২০২৬ সালের হজে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ভিসা আবেদনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করছে 'নুসুক' প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হজযাত্রীরা সরাসরি তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান, প্যাকেজ নির্বাচন এবং ভিসার স্থিতি যাচাই করতে পারছেন।
ডিজিটাল ভিসার সুবিধার কারণে কাগজবিহীন প্রক্রিয়া, বায়োমেট্রিক তথ্য এবং ই-ভিসা সিস্টেমের মাধ্যমে এখন আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় না। এতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হচ্ছে এবং হজযাত্রীরা সরাসরি দেখতে পাচ্ছেন তাঁদের অর্থ কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের হজ মিশনের সাথে সরাসরি সংযোগ থাকায় তথ্য যাচাইয়ের কাজ কয়েক মিনিটেই সম্পন্ন হচ্ছে।
২০২৬ সালের হজের জন্য প্রতিটি দেশের জনসংখ্যা অনুযায়ী কোটা বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহামারি পরবর্তী সময়ে হজ কার্যক্রম পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরে আসার পর এবারও রেকর্ড সংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো থেকে বড় সংখ্যক হজযাত্রী আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো হজযাত্রীদের নিরাপত্তা এবং আরাম নিশ্চিত করা। ভিসা কার্যক্রম আগে শুরু করার অর্থ হলো প্রতিটি হজযাত্রীর প্রোফাইল এবং তাঁদের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আগে থেকেই অবহিত থাকা।
মক্কা এবং মদিনায় হজযাত্রীদের থাকার ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে মক্কার 'সেন্ট্রাল এরিয়া' বা হারাম শরীফের নিকটবর্তী এলাকায় বহুতল ভবনগুলোর সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। জেদ্দাহ বিমানবন্দর থেকে মক্কা এবং মদিনার মধ্যে যাতায়াতের জন্য 'হারামাইন হাই-স্পিড রেলওয়ে' বা দ্রুতগামী ট্রেনের ট্রিপ সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া মিনা, আরাফাত এবং মুজদালিফার মধ্যে যাতায়াতকারী মাশায়ের ট্রেনের শিডিউল বা সময়সূচি আরও সুশৃঙ্খল করা হয়েছে যাতে তীব্র গরমে হজযাত্রীদের কষ্ট কম হয়।
ফেব্রুয়ারি মাসে ভিসা শুরু হলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কিছু গাইডলাইন বা নীতিমালা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ভ্রমণ এবং হজের কঠোর পরিশ্রমের কথা মাথায় রেখে হজযাত্রীদের ইনফ্লুয়েঞ্জা, মেনিনজাইটিস এবং বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক টিকা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভিসা পাওয়ার জন্য এই টিকাদান সনদগুলো ডিজিটাল পোর্টালে আপলোড করা বাধ্যতামূলক। সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয় এবার এজেন্সিগুলোর ওপর কড়া নজরদারি রাখছে। কোনো এজেন্সি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিলে বা আবাসন ব্যবস্থায় ত্রুটি রাখলে তাদের বড় অঙ্কের জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
যারা ২০২৬ সালে হজে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাঁদের জন্য কিছু জরুরি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত থাকা নিশ্চিত করা, নিজ নিজ দেশের অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে দ্রুত নিবন্ধন করা এবং সকল প্রকার আর্থিক লেনদেন শুধুমাত্র অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমে করে রসিদ সংগ্রহ করা উল্লেখযোগ্য।
হজের দীর্ঘ পথ হাঁটার জন্য এখন থেকেই শারীরিক প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভিসা কার্যক্রম ২০২৬ সালের হজকে আরও বেশি সুশৃঙ্খল এবং আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেএইচআর