ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

ইসলামে শ্রমিকের অধিকার ও শ্রমনীতি

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

মে ১, ২০২৬, ০১:০২ পিএম

ইসলামে শ্রমিকের অধিকার ও শ্রমনীতি

আজ ১ মে, বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মে দিবস। ১৮৯০ সাল থেকে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামের ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে দিনটি পালন করা হয়ে আসছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশে এটি সরকারি ছুটির দিন হলেও, বাস্তবতায় শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও সঠিক মজুরি নিশ্চিত করার বিষয়টি এখনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

শ্রমিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিশ্বজুড়ে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা উন্নয়নের মতো কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি ঘটেছে। তবুও মে দিবসকে ঘিরে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য বলছে, পৃথিবীর বহু স্থানে শ্রমিকরা এখনো ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শিশুশ্রম এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে শ্রম দিতে বাধ্য হওয়ার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও শ্রমিকদের পূর্ণ মুক্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ইসলামি শ্রমনীতি শ্রমিক ও মালিক উভয়ের অধিকার রক্ষায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে। ইসলামি শিক্ষায় শ্রমিকের অধিকার রক্ষা কেবল সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি ধর্মীয় ও নৈতিক আমানত হিসেবে বিবেচিত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। শ্রমিকের পারিশ্রমিক দ্রুত পরিশোধের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, শ্রমিককে তার ঘাম শুকানোর আগেই পারিশ্রমিক দিয়ে দাও। এই হাদিসটি আধুনিক শ্রমনীতির একটি মৌলিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একইসঙ্গে শ্রমিকের ওপর জুলুম করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নাহল ও সুরা সাদে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অধিকার যথাযথভাবে প্রদান করার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইসলামি শ্রমনীতির দৃষ্টিতে শ্রমিকের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার বাইরে কোনো কাজ চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি কর্মস্থলে শ্রমিকের প্রতি অবমাননাকর আচরণ না করে তাকে মানবিক মর্যাদা প্রদান করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আধুনিক শ্রমব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, প্রচলিত ব্যবস্থা মূলত আইননির্ভর হলেও ইসলামি শ্রমব্যবস্থা আইন, নৈতিকতা এবং পরকালীন জবাবদিহির সমন্বয়ে গঠিত।

ইসলামে শ্রমকে শুধু অর্থনৈতিক কার্যক্রম হিসেবে দেখা হয়নি; বরং এটিকে ইবাদতসুলভ দায়িত্ব হিসেবেও বিবেচনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর বাণী অনুযায়ী, হালাল উপার্জন করা ফরজের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

বর্তমান সময়ে শিশুশ্রম একটি বৈশ্বিক মানবিক সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। ইসলাম শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং সুস্থ বিকাশকে অগ্রাধিকার দেয় এবং দুর্বলদের ওপর অন্যায় শ্রম চাপানোকে নিষিদ্ধ করেছে।

মে দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন আলোচনায় বক্তারা মত দিয়েছেন যে, কেবল আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শ্রমিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ইসলামি শ্রমনীতির বাস্তব প্রয়োগ প্রয়োজন।

ইসলামি দৃষ্টিতে শ্রমের আধ্যাত্মিক মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। পবিত্র কোরআনের সুরা জিলজালে প্রতিটি ভালো কাজের জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এই শিক্ষা মালিক ও শ্রমিক উভয়কেই দায়িত্বশীল ও ন্যায়নিষ্ঠ হতে উদ্বুদ্ধ করে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করেছেন যে, অত্যাচারিত শ্রমিকের দোয়া ও আল্লাহর মাঝে কোনো বাধা থাকে না।

পরিশেষে বলা যায়, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা ছাড়া কোনো সমাজ বা সভ্যতার অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই মে দিবসের এই দিনে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং মানবিক শ্রমনীতির বাস্তবায়ন সমাজ ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

এম জি
 

Link copied!