আমার সংবাদ ধর্ম ডেস্ক
মে ১৬, ২০২৬, ১০:১২ এএম
কোনো আড্ডা বা বৈঠকে তিনজন একসাথে থাকলে একজনকে বাদ দিয়ে বাকি দুজনের পরস্পর কানাঘুষা বা ফিসফিস করে কথা বলা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এ ধরনের আচরণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।
কাউকে পাশ কাটিয়ে এভাবে কথা বললে তৃতীয় ব্যক্তি নিজেকে অবহেলিত বা অনুপ্রবেশকারী ভাবতে পারেন। এই আচরণ তাকে মানসিকভাবে কষ্ট দেয়, চিন্তিত করে এবং তিনি নিজেকে একা ও নিঃসঙ্গ অনুভব করেন। মূলত এই কারণেই হাদিসে এমন কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোথাও তোমরা তিনজন থাকো, তখন একজনকে বাদ দিয়ে দুজনে কানে কানে কথা বলবে না। এতে তার মনে দুঃখ হবে। তবে তোমরা মানুষের মধ্যে মিশে গেলে তা করতে দোষ নেই।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৩২)
আরেক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তিনজন আলাপরত থাকলে একজনকে পাশ কাটিয়ে দুজন কানাঘুষায় লিপ্ত হয়ো না।’ হাদিসটি বর্ণনা করে সুফিয়ান (রহ.) বলেন, একজনকে বাদ রেখে দুজনে কানাকানি করলে তৃতীয়জনের মনে দুঃখ লাগে।
কানাঘুষা করলে তৃতীয় ব্যক্তি কষ্ট পান, আর কাউকে অহেতুক কষ্ট দেওয়া ইসলাম সমর্থন করে না। মানুষকে কষ্ট দেওয়া আল্লাহ তাআলার একেবারেই পছন্দ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একজনকে বাদ রেখে দুজন পরস্পর আলাপে লিপ্ত হবে না। কারণ এতে তার মনে কষ্ট লাগবে। আর মুমিনকে কষ্ট দেওয়া আল্লাহ তাআলার পছন্দ নয়।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮২৫)
হযরত ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তৃতীয়জনকে বাদ রেখে দুজনে আলাপচারিতায় মেতে উঠবে না। কারণ এতে তৃতীয়জন কষ্ট পায়।’ বর্ণনাকারী আবু সালেহ বলেন, আমি ইবনে উমরকে (রা.) জিজ্ঞাসা করলাম, যদি চারজন থাকে? উত্তরে তিনি বললেন, ‘তাহলে সমস্যা নেই।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৫২)
পবিত্র কোরআনের সূরা কাফের ১৮ নম্বর আয়াতে এরশাদ হয়েছে, ‘যে কথাই মানুষ উচ্চারণ করে (তা সংরক্ষণের জন্য) তার কাছে একজন সদা তৎপর প্রহরী আছে।’ এছাড়া সূরা বাকারার ৮৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা লোকের সঙ্গে উত্তমভাবে কথা বলবে।’
জেএইচআর