ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
জ্বালানি যুদ্ধের নতুন সমীকরণ 

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইউরোপকে তেলের প্রস্তাব পুতিনের, দাবার চালে কি ফিরবে রাশিয়া?

বিশেষ প্রতিবেদক

বিশেষ প্রতিবেদক

মার্চ ১০, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইউরোপকে তেলের প্রস্তাব পুতিনের, দাবার চালে কি ফিরবে রাশিয়া?
রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন গতকাল সোমবার রাশিয়ার মস্কোর ক্রেমলিনে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি নিয়ে একটি বৈঠকের সভাপতিত্ব করছেন। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে গত চার বছর ধরে যে রাশিয়া ইউরোপের কাছে ছিল ‘অস্পৃশ্য’, মধ্যপ্রাচ্যের বারুদঠাসা পরিস্থিতি সেই সমীকরণকে রাতারাতি বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের যুদ্ধ যখন বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে খাদের কিনারে নিয়ে ঠেলে দিয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউরোপকে তেল ও গ্যাস সরবরাহের এক ‘শর্তসাপেক্ষ’ প্রস্তাব ছুড়ে দিয়েছেন।

সোমবার ক্রেমলিনে সরকারি কর্মকর্তা এবং রাশিয়ার শীর্ষ জ্বালানি খাতের প্রধানদের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পুতিন বলেন, যদি ইউরোপীয় দেশগুলো রাজনৈতিক চাপমুক্ত হয়ে দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই সহযোগিতার পথে ফিরতে চায়, তবে মস্কো তাদের ফিরিয়ে দেবে না।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত ২৪ ঘণ্টায় আকাশচুম্বী হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে সোমবার ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর সর্বোচ্চ। এক পর্যায়ে এর দাম ১১৯ ডলারে পৌঁছায়। মূলত হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি সুবিধা নিতে চাইছে ক্রেমলিন।

টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে পুতিন অত্যন্ত সুকৌশলে ইউরোপের বর্তমান অসহায়ত্বকে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো যদি হঠাৎ করেই তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে এবং আমাদের সাথে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত দীর্ঘমেয়াদী কাজ করতে চায়, তবে আমরা তা কখনো অস্বীকার করিনি। আমরা ইউরোপীয়দের সাথেও কাজ করতে প্রস্তুত।’

তিনি রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দেন। পুতিনের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে এক-পঞ্চমাংশ এলএনজি ও তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ইউরোপ এখন গভীর জ্বালানি সংকটে। এই শূন্যস্থান পূরণ করার সামর্থ্য কেবল রাশিয়ারই আছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) রাশিয়ার ওপর থেকে তাদের জ্বালানি নির্ভরতা নাটকীয়ভাবে কমিয়ে এনেছে। একসময় ইউরোপের ৪০ শতাংশ গ্যাস আসত রাশিয়া থেকে, যা ২০২৫ সাল নাগাদ মাত্র ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

পুতিনের এই প্রস্তাবের কয়েক ঘণ্টা আগেই হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানান যেন রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। উল্লেখ্য যে, ইউক্রেনের ভেতর দিয়ে যাওয়া ড্রুজবা পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় রাশিয়ার পাইপলাইন রপ্তানি গত জানুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে। পুতিনের এই প্রস্তাব সেই পাইপলাইন সংস্কার এবং পুনরায় সচল করার একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতও হতে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইউরোপীয় বাজার হারিয়ে রাশিয়া বাধ্য হয়ে এশিয়ায় (বিশেষ করে চীন ও ভারতে) বিপুল ছাড়ে তেল বিক্রি করছিল। এখন যদি ইউরোপ পুনরায় রাশিয়ার তেল কেনা শুরু করে, তবে মস্কো কেবল বড় অংকের রাজস্বই পাবে না, বরং বৈশ্বিক রাজনীতিতে তাদের হারানো প্রভাবও পুনরুদ্ধার করবে।

সোমবার জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্য নিয়ন্ত্রণে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নিতে প্রস্তুত। তবে জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার বিষয়ে তারা এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি। এই ধোঁয়াশা মূলত পুতিনের প্রস্তাবকে আরও শক্তিশালী করছে।

পুতিনের এই প্রস্তাব কেবল ব্যবসায়িক নয়, এটি একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক চাল। ট্রাম্পের নেতৃত্বে মার্কিন প্রশাসন যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে লিপ্ত, তখন পুতিন নিজেকে ইউরোপের ‘ত্রাতা’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন। এখন প্রশ্ন হলো, ইউরোপ কি ইউক্রেনের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নিজেদের অর্থনীতি বাঁচাতে রাশিয়ার গ্যাসের পাইপলাইন পুনরায় খুলে দেবে? উত্তরটি হয়তো আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তেলের দামের গ্রাফ বলে দেবে।

এএন

Link copied!